রৌমারীর ঝগড়ারচর বেড়িবাঁধ নাজুক
আমির হোসেন, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলাধীন ঝগড়ারচর পানি নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধটি সংস্কার না করায় হুমকির মুখে রয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে বাঁধের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে হাজার হাজার একর জমির ফসল বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক ও কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ছাটকড়াইবাড়ী থেকে ঝগড়ারচর ডিসি রাস্তা পর্যন্ত, (পাবসস) ক্ষুদ্র পানি সম্পদের ৬ কিলো ২০০ মিটার বেড়িবাঁধটির বেহাল দশা। ক্ষুদ্র পানি সম্পদের বেড়িবাঁধটি (পাবসস) কমিটির ৪৫৭ জন সদস্য ও ৬০০ উপকার ভোগীর মাধ্যমে ২০০১ সালে কাজ শুরু করা হয়। যার সমাপ্তি হয় ২০০৪ সালে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাজাহান জানান, গত বন্যায় ভারতের কুকুর মারা ১০৫৮-৫৯ সীমান্তে ভারত থেকে বয়ে আসা জিনজিরাম নদীর ওপর বোয়ালিয়া ব্রিজের নিচ দিয়ে পাহাড়ি ঢল প্রচণ্ড বেগে ধর্মপুর জিনজিরাম নদীতে আছড়ে পড়ে। পানির প্রচণ্ড চাপে পাবসসের বেড়িবাঁধটি ছয় স্থানে ভেঙে খানখান হয়ে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি-বন্যায় খানাখন্দে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ে।
ঝগড়ারচর (পাবসস) কমিটির সভাপতি জোবাইদুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের তোড়ে বাঁধটি জেসমিনের বাড়ির কাছে ১০০ মিটার, হাশেমের বাড়ির কাছে ৩০ মিটার, মোতালিবের বাড়ির নিকট, আব্দুল হাকিম, মতিয়ার ও সাখাওয়াতের বাড়ির পাশেসহ অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এমনকি বাঁধটির প্রায় ২০০ মিটার ভেঙে জিনজিরাম নদে পরিণত হয়।
ঝগড়ারচর (পাবসস) কমিটির সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রম, মাথার ঘাম পায়ে ফেলানো কষ্টার্জিত সোনার ফসল সর্বনাশা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাঁধটি না থাকায় ঐ অঞ্চলের কৃষকের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
ইউপি সদস্য আবুল হাশেম বলেন, ‘বেড়িবাঁধের ভেতরে প্রায় ১০ হাজার একর আবাদি জমি রয়েছে। যা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের গ্রাসের মুখে। বাঁধটি ভেঙে কয়েক জায়গায় বড়ো বড়ো গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষকরা আশঙ্কায় আছেন। তবে বাঁধটি বর্ষা মৌসুমের আগে মেরামত না করলে হাজার হাজার একর ফসলের ক্ষতি সাধিত হবে।’
রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঝগড়ারচর বেড়িবাঁধটির বিষয়ে ইতিমধ্যে আমার একটি টিম সরেজমিনে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে। বাঁধটির অবস্থা বড়োই নাজুক। তবে বাঁধটি পুনর্নির্মাণ বা মেরামতের জন্য কুড়িগ্রাম এলজিইডি প্রকৌশলী বরাবর আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ’
