অন্নদানগর ও দেবী চৌধুরাণী রেল স্টেশন
পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা
পীরগাছায় ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দুটি স্টেশন দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় এখন গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্টেশন দুটিতে নিয়মিত ট্রেন থামে। যাত্রীও ওঠা-নামা করে। কিন্তু স্টেশন মাস্টারের কক্ষে ঝুলছে তালা। নেই স্টেশন মাস্টারসহ কোনো জনবল। প্রতিদিন ছয়টি ট্রেন যাত্রাবিরতি করলেও যাত্রীদের টিকেট কাটতে হয় না। স্টেশন দুটি হলো উপজেলার অন্নদানগর ও দেবী চৌধুরাণী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ স্টেশন দুটির ভবনে ঝুলছে তালা। জনবল না থাকায় স্টেশনের সর্বত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। স্টেশনে রেললাইন ঘেঁষে গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। টিকেট কাটার ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা টিকেট ছাড়াই ট্রেনে উঠছেন। শুধু টিকেট নয়, বুকিং ছাড়াই মালামাল পরিবহন করা হচ্ছে।
অন্নদানগর স্টেশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুস ছালাম বলেন, স্টেশনটি বন্ধ থাকায় গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। দেখার কেউ না থাকায় স্টেশন এলাকায় যত্রতত্র গরু-ছাগল বেঁধে রাখা হয়। এতে যে কোনো সময় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দেবী চৌধুরাণী স্টেশন এলাকার সুজন মিয়া বলেন, স্টেশনটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সামসুজ্জোহা বলেন, অন্নদানগর ও দেবী চৌধুরাণী স্টেশন বন্ধ থাকায় পীরগাছা স্টেশনে চাপ বেড়েছে। এখানে একটি ট্রেন দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে অন্য ট্রেন পার (ক্রসিং) করে দিতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীসাধারণ। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় কার্যালয়ের ম্যানেজার শফিকুর রহমান শফিক বলেন, লোকবল না থাকায় স্টেশনগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে আবার চালু করা হবে স্টেশনগুলো।
