স্পোর্টস রিপোর্টার
মহেন্দ্র সিং ধোনির ভবিষ্যত্ কী হতে যাচ্ছে, এ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই।
বিশ্বকাপের পর আর কোনো ধরনের ক্রিকেটেই নেই তিনি। ডাক পাননি জাতীয় দলে। তিনি নিজেও খেলতে আগ্রহী কি না, এ নিয়ে কোথাও কোনো কথা নেই। এর মধ্যে তাকে দীর্ঘকাল পর প্রথমবারের মতো ভারতীয় বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হলো। ফলে বিশ্বকাপ জয়ী এই অধিনায়কের ভবিষ্যত্ নিয়ে ঘোরতর একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এই অবস্থায় ধোনির সামনে একমাত্র পথ হলো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ভালো করে জাতীয় দলে ফেরা। খোদ কোচ রবি শাস্ত্রী বলেছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বিবেচিত হতে হলে ধোনিকে আইপিএলে ভালো করে আসতে হবে।
এতসব নেতিবাচক খবরের মধ্যে একটা সুখবর হলো, ভারতীয় বোর্ডের সাবেক প্রধান ও চেন্নাই সুপার কিংসের অন্যতম মালিক এন শ্রীনিবাসন বলেছেন, আইপিএলের সামনের মৌসুমের জন্যও তারা ধরে রাখবেন ধোনিকে।
ইন্ডিয়া সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রীনিবাসন বাণিজ্যিক এক অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘লোকেরা আমাকে জিজ্ঞেস করে, ও (ধোনি) কবে অবসর নেবে, কতদিন খেলবে সে; এসব কথা। সে খেলবে। আমি নিশ্চিত করছি, সে খেলবে। সে এই বছর আমাদের হয়েই খেলবে। আগামী বছর ওর নাম নিলামে যাওয়ার কথা; আমরা ওকে তখন ধরে রাখব। ফলে এ নিয়ে কারো মনে সন্দেহ রাখার কোনো দরকার নেই।’
৩৮ বছর বয়সি ধোনি কাগজে কলমে এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সক্রিয় খেলোয়াড়। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের পর তিনি পরপর কয়েকটা সিরিজে নিজেই দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ভেতরের খবর বলছিল, তিনি টি-টোয়েন্টি দলে খেলতে রাজি ছিলেন। ওদিকে তাকে ছাড়াই একটার পর একটা টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে ভারত। তার বদলি হিসেবে রিশভ পান্টকে তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু ধোনির দিকে একটা ভালো খবর হলো, পান্ট নিজেকে মোটেও থিতু করতে পারছেন না।
যদিও বোর্ড কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না রাখার ভেতর দিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা ধোনিকে নিয়ে আর ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা করতে রাজি নয়। কিন্তু কোচ রবি শাস্ত্রী সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ধোনি এখনও ফুরিয়ে যাননি।
শাস্ত্রী মনে করেন আইপিএলে নিজেকে প্রমাণ করে ফিরতে পারলে তাকে নিয়ে অবশ্যই ভাবা যাবে, ‘ও যেহেতু আইপিএল খেলবে, তার মানে তো খেলায় থাকবে। আইপিএল খেলে সে সতেজ মনে ও পরিষ্কার চিন্তা নিয়ে শুরু করতে পারবে। ঐ সময় আমরা তার ফর্ম দেখব। সে যদি ভালো আইপিএল কাটায় এবং নিজেকে লড়াইয়ে নিয়ে আসে এবং বলে যে, আমাকে এখন নির্বাচনের জন্য পাওয়া যাবে, তাহলে তো এত কথার দরকার হবে না।’
