সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন অসুস্থ হয়ে জাতীয় দলে ঠাঁই পাননি। স্ট্রাইকার সংকট ছিল। বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ বার বার বলছিলেন ফিনিশিংয়ের অভাব। নাবীব নেওয়াজ জীবনের পরিপূরক হতে চান মতিন মিয়া। এ ইস্ট্রাইকার ক্লাব ফুটবলে বসুন্ধরা কিংসের জার্সি গায়ে গোল করছেন। কিন্তু জাতীয় দলে গেলেই তিনি সাইড বেঞ্চে জায়গা পান। একাদশে জায়গা পান না। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ডু অর ডাই ম্যাচে মতিন মিয়া আগুনের ফুলকির মতো জ্বলে উঠলেন। নিজের ছাই চাপা আগুন কীভাবে আগ্নেয়গীরি লাভা হয়ে দেখা দিল সে কথাই বলছিলেন খেলা শেষে। মতিন মিয়া কাল সংবাদ সম্মেলনে যেভাবে কথা বললেন তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার তার যোগ্যতা থাকলেও জাতীয় দলের একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় না। মতিন বলেন, ‘মনের মধ্যে অনেক কষ্ট ছিল। সাইড বেঞ্চ বসে থাকতে হতো। এবার যখন সুযোগ পেয়েছি , নিজেক প্রমাণ করেছি। একাদশে নিয়মিত হতে চাই।’
মতিন মিয়া জাতীয় দলে এবারই প্রথম গোল করলেন। দুই দুটি গোল তিনি উপহার দিয়েছেন। তার গোল দুটি বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে তুলে দিয়েছে। বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। সিলেটের ছেলে মতিন মিয়া কাল বলছিলেন,‘আন্তর্জাতিক ম্যাচে আমার প্রথম গোল। আর দ্বিতীয় গোলটি হচ্ছে আমার ক্যারিয়ারের সেরা গোল।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের একাধিক ফুটবলার খেলতে পারেননি। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া ছিলেন বাইরে। একাদশে পরিবর্তন হয়েছিল আরো তিনটি, দুই ডিফেন্ডার রায়হান হাসান ও ইয়াসিন খান এবং মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম, জেমি ডের একাদশে অন্তভুঁক্ত হন বিশ্বনাথ ঘোষ, নতুন মুখ মানিক মোল্লা, রিয়াদুল হাসান ও মাহবুবুর রহমান সুফিল। বেশ কয়েক বছর পর ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফের ৪-৩-৩ ছকে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। বিশ্বনাথ-রিয়াদুল-তপু-রহমতের সামনে সোহেল রানা-মানিক-ইব্রাহিম খেলেছেন মিডফিল্ডে; আক্রমণে সুফিল—সাদ-মতিন। ম্যাচ শেষে উত্ফুল্ল জেমি যে বলেন, টোটাল নতুন টেকনিকে দল নামিয়ে ছিলাম। রায়হান, মামুনুলকেও একাদশে দেইনি। নতুন টেকনিকে আমি সফল হয়েছি। মতিন ইব্রাহিম সুফিলকে দিয়ে যা চেয়েছিলাম তারা করে দিয়েছে। এই ম্যাচ নিয়ে আমি অনেক চাপে ছিলাম, কারণ অনেক ইনজুরি ছিল দলে।’ সেমিফাইনালে বুরুন্ডিকে নিয়েও কথা বলেন জেমি। তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী বুরুন্ডি। সেমিফাইনালের আগে তিন দিন সময় আছে।’
সেমিফাইনালে থাকবেন না তপু বর্মন
তপু বর্মনকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তিনি দায়িত্ব নিয়েও শেষ পর্যন্ত সর্বনাশ করেছেন। ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা শেষ হওয়ার মুহূর্তে দুই হলুদ কার্ডের কারণে লালকার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন তপু। যে কারণে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে থাকবেন না তপু। তার মতো সিনিয়র ফুটবলার কেন এমনটা করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সামনে সেমিফাইনাল ম্যাচ। নিশ্চিত জয় বাংলাদেশে। তারপরও অযথা ফাউল করে বাংলাদেশকে বিপদেই ফেলেছেন তিনি। কোচ জেমি এখন নতুন করে ভাবছেন বুরুন্ডির বিপক্ষে বাংলাদেশের রক্ষণ সামাল দিবেন কীভাবে।
আজকের খেলা ঃ
সিশেলস ও মরিসাশ। ৫টা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।
