জিতেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৪

আশঙ্কা ছিল অনেক কিছু নিয়ে। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেও অনেক বলাবলি করছিলেন বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠতে পারবে না। সব আশঙ্কা দূর করে দিয়ে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইটের উজ্জ্বল আলোয় বাংলাদেশ ৩-০ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ খেলবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বুরুন্ডির বিপক্ষে, ২৩ জানুয়ারি।

কোচ পাকির আলীর শ্রীলঙ্কা, আগেই বাংলাদেশের খেলা দেখে গিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বাংলাদেশের (২-০) হার দেখেছিলেন। নিজেও হেরেছিলেন ফিলিস্তিনের বিপক্ষে। আত্মবিশ্বাস ছিল নিজের পুরোনো শহরের মাঠে তার শিষ্যরা বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিতে জায়গা করে নেবেন। ঢাকার মাঠ এবং পরিবেশ সবই পাকির              আলীর চেনা। কিন্তু ভঙ্গুর বাংলাদেশ লঙ্কান ফুটবল দলকে যেন উড়িয়েই দিল। একটি দুটি নয়, তিন গোলে শ্রীলঙ্কাকে ঘরে ফেরার ফ্লাইট ধরিয়ে দিল। তবে তিন গোলে জিতলেও তপু বর্মন শেষ মুহূর্তে লালকার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়ায় দলের জন্য আরেকটি ক্ষতি করে দিয়েছেন তিনি।

ভঙ্গুর বলার কারণ দলের ভেতরে একাধিক ইনজুরিতে বাংলাদেশের শক্তিটা দুর্বলই হয়ে গিয়েছিল। তার পরও এভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তা অবিশ্বাস্যই মনে হচ্ছে। স্টেডিয়ামে হাজার দশেক ফুটবলার বাংলাদেশের বিজয় দেখে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছেন অকৃপণভাবে।

একতরফা খেলেছে বাংলাদেশ, তাও বলা যাবে না। তবে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে। সময়ের প্রয়োজনে যতটুকু করার তা করে নিয়েছে। স্ট্রাইকার নেই দলে, ডিফেন্সে ভালো ফুটলার নেই। এতো কিছুর মধ্যে বাংলাদেশের ফুটবল পারফরম্যান্স দেখে বাহবা দিয়েছেন দর্শক।

স্ট্রাইকার না থাকায় কে গোল করবেন তা নিয়ে অনেক জল্পনাকল্পনা ছিল। কিন্তু কাল রাতে মতিন মিয়া জোড়া গোল করে বাংলাদেশকে অসাধারণ একটা জয় এনে দিয়েছেন। তার দুরন্ত ফুটবল পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে সেমিফাইনালের বন্দরে নিয়ে গেছে। ২০১৬ সালে যশোরে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে এই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। পরের আসরটি সিলেট, কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল ফাইনাল। কক্সবাজারে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। ফিফার র্যাংকিংয়ে শ্রীলঙ্কার ওপর বাংলাদেশ। ফুটবল লড়াইয়েও বাংলাদেশ এগিয়ে থাকার কথা। দর্শকদেরও ভাবনা ছিল জয় নিয়ে ফিরবে। সেদিক দিয়ে হিসাব করলে লঙ্কানদের হারিয়ে বাংলাদেশ সফল। তবে কাগজে-কলমে বাংলাদেশেরই প্রাপ্য ছিল জয়।

সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মধ্যে সমীকরণ ছিল ড্র হলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়াবে। দুই দলই চেয়েছিল ৯০ মিনিটেই খেলাটা শেষ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকার পর্যন্ত যেতে হয়নি।

খেলার শুরুটা জানান দিচ্ছিল ভালো কিছু একটা হবে। সাদ উদ্দিন বল রিসিভ করেও গোল করতে পারেননি। আফসোস মিটিয়ে দিয়েছেন স্ট্রাইকার পজিশনের ফুটবলার মতিন মিয়া। ১৭ মিনিটেই সাদ উদ্দিনের কাছ থেকে পাওয়া বলটাকে নিয়ে লঙ্কান ডিফেন্ডার সুপানকে ডজ দিয়ে গোল করেন মতিন মিয়া ১-০। দ্বিতীয় গোল করতে পারতেন ইব্রাহিম। কিন্তু নিজে গোল করতে গিয়ে সুফিলকে বল দেননি। ইব্রাহিমও গোল করতে পারেননি। প্রথামর্ধেই সুফিল বঞ্চিত করেন বাংলাদেশকে।

১-০ গোলের ওপর আস্থা নেই। লঙ্কান ফুটবল দল যেকোনো সময়েই আঘাত করবে এমন আভাস ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। আক্রমণের চাপ ধরে রেখে শেষ বাঁশি পর্যন্ত নিয়ে গেছে ম্যাচটা। সোহেল রানার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। মতিন মিয়া দ্বিতীয় গোল করেন দারুণ একটা আক্রমণে। মাঝমাঠ থেকে বলটা ছোঁ মেরে নিয়ে গোলকিপার অরুনসারীকে কাটিয়ে গোল করেন ২-০। পুরো মাচটা তখন বাংলাদেশের হতের মুঠোয়। বদলি রাকিবের পাস থেকে ইব্রাহিম ম্যাচের তৃতীয় গোল করেন ৩-০।

বাংলাদেশ : আশরাফুল ইসলাম রানা, রহমত মিয়া, তপু বর্মন (ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক), রিয়াদুল হাসান, বিশ্বনাথ ঘোষ, সোহেল রানা, সুফিল (মামুনুল ইসলাম), ইব্রাহিম (সুশান্ত ত্রিপুরা), সাদ উদ্দিন, মতিন মিয়া, মানিক হোসেন মোল্লা (রাকিব হোসেন)।

রেফারি : ভিরেনদহ রায় (ভুটান)। (আরো খবর খেলার পাতায়)।