রংপুরে ডেকে নিয়ে হত্যা, ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৫

রংপুরে এসে লাশ হলেন রাজধানীর ব্যবসায়ী ও আরবান হেলথ কেয়ারের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার তোশারফ হোসেন পপি।  অপহরণের ৯ দিন পর গতকাল রবিবার সকালে  পুলিশ বদরগঞ্জের  শ্যামপুর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। ১১ জানুয়ারি রংপুরের কামারপাড়া-ঢাকা বাস স্ট্যান্ড থেকে তার পূর্ব পরিচিত পুলিশ কনস্টেবল রবিউল ইসলাম তাকে অপহরণ করে গুম করেছিল। এ ঘটনায় ঐ কনস্টেবলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানাগেছে, ১১ জানুয়ারি রাজধানীর এনায়েতগঞ্জ লেন হাজীরবাগের ব্যবসায়ী ও আরবান হেলথ কেয়ারের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ তোশারফ হোসেন তার বাসায় গৃহপরিচারিকার (কাজের মেয়ে) সন্ধান ও অর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আলোচনার জন্য রংপুরে পুলিশ কনস্টেবল রবিউল হোসেনের কাছে আসেন। কিন্তু নগরীর কামারপাড়া পৌঁছানোর পর তাকে অপহরণ করা হয়।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রংপুর কোতয়ালি থানায় ব্যবসায়ীর ছোট বোন সাজিয়া আফরিন ডলি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত কনস্টেবল রবিউলকে শুক্রবার      রাতে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার দুলাভাই সাইফুল ও তাদের বাসার কাজের ছেলে বিপুলকে গ্রেপ্তার করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকালে বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকায় রবিউলের বড়ো বোন লাবণী আক্তারের বাড়ির পাশে একটি আখ ক্ষেত থেকে তোশারফের লাশ উদ্ধার করা হয়। ডলি জানান, অপহরণের পরপরই তার ভাইয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এসময় কনস্টেবল রবিউলের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার কোতয়ালী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করি।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে আর্থিক লেনদেন ও কাজের মেয়ের বিষয় নিয়ে বিরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে।  বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।