দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করতে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। অঞ্চলভিত্তিক ও বিনিয়োগের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হবে। যাতে করে দেশে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং পর্যটনশিল্প সমৃদ্ধ হয়।
গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নকাজের উদ্বোধনকালে এ তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এমপি। তিনি বলেন, মহাপরিকল্পনায় বদলে যাবে দেশের পর্যটনশিল্পের চিত্র। ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশের পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ পর্যটনশিল্প নতুন যুগে প্রবেশ করবে। এ খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক সম্ভাবনার সূচনা হবে। বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হবে।
মাহবুব আলী বলেন, পর্যটনে উন্নত দেশগুলোর সমকক্ষ হতে হলে আমাদের সুচিন্তিতভাবে কাজ করতে হবে। পর্যটকদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যটক বৃদ্ধি বা হ্রাসের কারণ নির্ণয় করা জরুরি। আমাদের ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যানে সেই নির্দেশনা থাকবে। একই সঙ্গে এ থেকে উত্তরণের পথও চিহ্নিত করা হবে। পর্যটন মহাপরিকল্পনা তিনটি পর্যায়ে তৈরি হবে জানিয়ে মাহবুব আলী বলেন, প্রথম পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা হবে দেশের পর্যটনশিল্পের বর্তমান অবস্থা, এর শক্তি কতটুকু, দুর্বলতা কোথায়, সম্ভাবনা কেমন, কোন ধরনের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি সব পর্যটন আকর্ষণ ও পর্যটন সম্পদ চিহ্নিত করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে বাংলাদেশের পর্যটনের ভিশন, মিশন, স্ট্র্যাটেজিক অবজেক্টিভস, প্রায়োরিটিস এবং লিংকেজ। এই পর্যায়ে পর্যটন উন্নয়ন, প্রমোশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৩, ৫ ও ১৫ বছর মেয়াদি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরি করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে জোন বা এরিয়া নির্দিষ্ট করে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে। প্রোডাক্ট উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হবে। অর্থায়ন ও বিনিয়োগের কৌশল অন্তর্ভুক্ত করে কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে। বিপণন ও প্রমোশনাল কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটনের অবদান মাত্র ২ শতাংশ। আসছে বছরগুলোতে একে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে পর্যটন মহাপরিকল্পনা সহায়ক ভূমিকা রাখবে। মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকা থেকে। পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শেষে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সবাই তা জানতে পারে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভুবন চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পর্যটন মহাপরিকল্পনার ওপর আরো বক্তব্য রাখেন পরামর্শক দলের প্রধান বেঞ্জামিন কেরি ও ডেপুটি টিম লিডার অধ্যাপক নুরুল ইসলাম নাজিম।
