বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবৃদ্ধি আগের ধারণার চেয়েও কম হবে বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। অক্টোবরে বিশ্ব অর্থনীতির পূর্ভাবাস প্রতিবেদন গতকাল হালনাগাদ করে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু উদীয়মান দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আশ্চর্যভাবে কমে গেছে। ভারতের অর্থনীতির গতি কমে গেছে ব্যাপকভাবে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান-মার্কিন উত্তেজনা বাড়ছে যার প্রভাবে তেলের দাম বাড়তে পারে। বিশ্বের অনেক দেশে সামাজিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে। বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর গতি দুর্বল হয়েছে। সবমিলিয়ে এ বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ যা ২০২১ সাল নাগাদ কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। গত অক্টোবরের পূর্বাভাস হতে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমিয়ে এবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো। সংস্থাটি বলছে উদীয়মান দেশগুলোর গড় প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। অক্টোবরে বলা হয়েছিল এ দেশগুলোর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাণিজ্যের গতিও কমে আসবে। এ বছর বিশ্ববাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশ হবে যা ২০২১ সালে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ডলার এবং ইউরোর মুদ্রা মানও কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধ নিয়ে সম্প্রতি একটি চুক্তি হলেও টেকনলজির বিষয়গুলো সুরাহা হয়নি। বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব বিশ্বের পুরো সাপ্লাই চেইনে পড়েছে। গেল বছর জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ফসল উত্পাদনেও পড়েছে। এরপরেও আগামী ২০২১ সালের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
