চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

বারিকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত হবে সড়কের বাইরে

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩০

চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যতম আলোচিত প্রকল্প ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সময় লাগবে। প্রকল্পটি ২০২৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় এর কাজ বন্ধ হয়ে আছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আপত্তির মুখে এর নকশাতেও পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

এই প্রকল্পটিকে মূলত মহানগরীর লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্রুত চলাচলের জন্য ডেডিকেটেড প্রকল্প হিসাবে সরকার অনুমোদন দিয়েছিল ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পস্থলে এসে এই প্রকল্পের পিলার পাইলিং কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে যান।

শুরুতেই এই প্রকল্প আপত্তির মুখে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। ফলে নতুন নকশা করে প্রকল্পটির টেকনিক্যাল কমিটি নগরীতে বন্দর এলাকার বারিকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত সড়কের ডান পাশে ৩০ ফুট করে ভূমি অধিগ্রহণ করে নির্মাণকাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ভূমি অধিগ্রহণসহ নকশা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়েছে আবার। পাশাপাশি এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি যেহেতু নগরীর লালখানবাজার থেকে বারিকবিল্ডিং, সল্টগোলা হয়ে পতেঙ্গা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত যাবে, সে কারণে বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণের সম্ভাব্য আপত্তির বিষয়টিও সময় নিয়ে নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান প্রকল্পের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস ইত্তেফাককে বলেন, নানা কারণে এই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যাচ্ছে না, সময় লাগবে। বর্তমানে বন্দরের আপত্তির কারণে নকশা পরিবর্তন করা হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়ের বন্দর অংশটি নির্মিত হবে (বারিকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত) সড়কের বাইরে, আমরা তাই নতুন করে নকশা প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, প্ল্যানিং, ডিজাইন ইত্যাদি কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া রিং রোড, এক্সেস রোড, ডিসি রোডসহ সিটি করপোরেশনের নির্মাণ ও সংস্কারাধীন বিভিন্ন সড়কের কাজ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কাজ শুরু করলে যে যানজটের সৃষ্টি হবে তার ব্যবস্থাপনার জন্য মহানগরী পুলিশের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনারও প্রয়োজন রয়েছে। তবে আমরা যদি পুরোদমে কাজ ধরতে পারি তাহলে প্রকল্পটি শেষ করতে বেশি সময় লাগবে না। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে প্রকল্পটির কাজ পতেঙ্গা থেকে সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ আছে।

প্রকল্পানুসারে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হবে চার লেনের। লালখানবাজারটিসহ অন্তত দুটি ফ্লাইওভারের সঙ্গে এটিকে যুক্ত করার জন্য দুটি বোটলনেক রাখা হবে। সে অনুসারে মুরাদপুর যাওয়ার জন্য এক্সপ্রেসওয়ে নগরীর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যাবে।

প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, চীনা এবং বাংলাদেশের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পটির কাজ করছে। প্রকল্পটির বর্তমান প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পটিতে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ করার টার্গেট সময় ধরা হয়েছিল ২০২৩ সাল। বর্তমানে বলা যায় প্রকল্পটি ফেইজ ওয়ারি কাজের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।