লাউয়াছড়ার ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার

চিকিত্সক ও জনবলসংকট মিলছে না পর্যাপ্ত দেখভাল

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩০

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শ্রীমঙ্গল উপজেলার বন্যপ্রাণীর নিরাপদ অভয়ারণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। রেসকিউ সেন্টারে বন্যপ্রাণী থাকলেও এদের সেবা ও চিকিত্সা প্রদানের জন্য নেই কোনো দক্ষ চিকিত্সক। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ বন্যপ্রাণী ও গাছপালা এবং জীববৈচিত্র্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রেসকিউ সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির চারদিক ঝোপে আচ্ছাদিত রয়েছে। অনেকটাই ভূতুড়ে অবস্থা। প্রাণীগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চার-পাঁচ জন লোকের প্রয়োজন থাকলেও দুজন দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট ও অন্যজন বনপ্রহরী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট ঋষু বড়ুয়া সেখানে থাকা বন্যপ্রাণীদের দেখাশুনা করেন। তবে তার অবর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকেন তার সহকারী বনপ্রহরী মো. ইব্রাহিম। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাছুদার রহমান সরকার জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অসুস্থ এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীর সেবা ও নার্সিংয়ের জন্য পশু চিকিত্সক, প্রাণী সেবাকর্মী থাকা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ জরুরি সেবা দিতে প্রস্তুত। গত তিন বছর ধরে চিকিত্সক ছাড়াই চলছে এই রেসকিউ সেন্টারটি। শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল দাশ জানান, জনবল ও চিকিত্সক সংকটের কারণে শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন বেসরকারি সংগঠনের কর্মীরা বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে সেবা-শুশ্রূষা করছেন।

লাউয়াছড়া বনবিটের রেঞ্জার মোনাইম হোসেন বলেন, জনবল সংকটের কারণে রেসকিউ সেন্টারটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে চিকিত্সক নেই। জনবল নিয়োগ দিলেই পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে সেন্টারটি। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া বলেন, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অনেক প্রাণী খাদ্যের জন্য লোকালয়ে গেলে স্থানীয়দের হাতে এমনকি মাঝেমধ্যে শিকারিদের হাতে আটকা পড়ে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকার পরও বন বিভাগ এসব প্রাণী উদ্ধার করে নিয়ে আসেন লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে। কিন্তু উদ্ধার হওয়া আহত প্রাণীগুলোর চিকিত্সার জন্য নেই কোনো পশু চিকিত্সক। বন্যপ্রাণীর স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল ও চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।