জেএমবির আরো ২ জঙ্গি গ্রেফতার

পুলিশের মনোবল ভাঙতেই হামলা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২১

পুলিশের মনোবল ভাঙতে দফায় দফায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে জেএমবি সদস্যরা। নতুন করে জানান দিতেই আতঙ্ক তৈরি করা ও প্রচার পাওয়া ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

রবিবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর শনির আখড়া থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া দুই জন হলেন, মূল পরিকল্পনাকারী মো. জামাল উদ্দিন রফিক ও তার সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন। তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় আরো চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, জেএমবির সক্রিয় সদস্য এবং ঢাকা শহরে পুলিশের ওপর পাঁচটি স্থানে বোমা হামলার সঙ্গে তারা সরাসরি জড়িত।  গ্রেফতারকৃত জামাল উদ্দিন রফিকের নেতৃত্বে গত বছরের ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। একই গ্রুপ ২৬ মে মালিবাগে টহল পুলিশ ভ্যানে বোমা হামলা চালায়। এতে এক জন পথচারী আহত হন। ২৩ জুলাই পল্টন মোড় ও খামারবাড়িতে দুটি পুলিশ বক্সে আইইডি বোমা পেতে রাখে। পরে ডিবির বোম ডিসপোজাল টিম বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে। সর্বশেষ ৩১ আগস্ট সায়েন্সল্যাব মোড়ে পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালায় তারা। পুলিশের ওপর নিক্ষিপ্ত বোমাগুলো রফিক তার বাড়িতে তৈরি করেছিল। রফি খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করেছেন। আর আনোয়ার পেশায় গাড়ি চালক। তিনি পোড়া মবিলের ব্যবসা করতেন।

সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিরা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে চায় প্রচার। পুলিশের ওপর হামলা করলে প্রচারটা বেশি পাওয়া যায়। তাছাড়া পুলিশের ওপর হামলা করলে জনমনে ভয়-ভীতিটা বেশি সৃষ্টি হবে। কারণ পুলিশ জনগণকে নিরাপত্তা দেবে। সেখানে পুলিশেই যদি অরক্ষিত হয় তাহলে জনগণকে কীভাবে নিরাপত্তা দেবে। এই জায়গায় তারা পুলিশের ওপর হামলার টার্গেট করেছিল।