চুরির ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২৬

তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স

জামিউল আহসান সিপু

তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে চুরির ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, কিছুই চুরি হয়নি। কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি এমনকি বালাম বই পর্যন্ত চুরি হয়নি। শুধু ডিভিআর কম্পিউটার হার্ডডিক্স, সিপিইউ, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাসহ কিছু ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল দিনভর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে কর্মকর্তাদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, দীর্ঘদিনের এই চোর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনই ব্যবস্থা নিতে পারবে না। উলটো যখন যে প্রশাসন আসেন, তারাই ভূমিদস্যু ও চোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

গতকাল ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার (ডিআর) সাবেকুন নাহার ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনার শুরুতে আমাদের ধারণা ছিল, অনেক দলিল, ভলিয়াম, বালাম বইসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরি হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পরপরই থানায় মামলা দায়ের করার পাশাপাশি আমি আমার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি করি। সংশ্লিষ্ট বাড্ডা ও উত্তরা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গত পাঁচ দিন ধরে তাদের কার্যালয়ের সকল নথিপত্র ঘেঁটে আজ (সোমবার) বিকালে আমার কাছে একটি প্রতিবেদন দেয়। তাতে দলিল ও ভলিয়াম এবং অর্থসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনটি প্রধান রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

তবে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই বাবলুর রহমান বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্যালয়ের চুরির ঘটনা নিয়ে তারা এখনো অন্ধকারের মধ্যে আছেন। ঘটনা নিয়ে অনেক রহস্য রয়েছে। সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করলেও রেজিস্ট্রেশন কার্যালয় থেকে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের সরঞ্জাম চুরি হয়েছে তা জানা যায়নি। চুরির ঘটনায় রেজিস্ট্রেশন কার্যালয়ের কেউ জড়িত আছে কি না তাও জানা যায়নি। যদিও ঘটনার পরপরই রেজিস্ট্রেশন কার্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের তিন জনকে  হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। তারা এখন পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এছাড়া ঘটনায় জড়িত কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা যায়নি।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার শুরু থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের রেজিস্ট্রেশন কার্যালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি, মোটা অঙ্কের টাকা, দলিল, কম্পিউটারের হার্ডডিক্স, ডিভিআর ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস চুরি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরপরই কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই মামলার এজাহারে যা যা উল্লে­খ করেছে সেই অনুযায়ী তদন্ত চলছে। বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা চুরি হওয়ার আলোচনা থাকলেও সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনো পুলিশকে খোলাশা করে কিছু জানায়নি। এমনকি চুরির ঘটনার পরদিন কর্তৃপক্ষ চুরি হওয়া মোটা অঙ্কের টাকা নিজ দায়িত্বে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে সেখান থেকে কী কী চুরি হয়েছে তাও আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে আলোচিত এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা গুরুত্ব দিয়ে ঘটনা তদন্ত করে আসল রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লে­েক্স সবার মধ্যে কানাঘুষা। কিছুটা আতঙ্কও রয়েছে অনেকের মধ্যে।

যেভাবে চুরি হয় : পাশাপাশি চার তলা ও তিন তলা বিশিষ্ট দুইটি ভবন নিয়ে তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স। চার তলা ভবনটি নতুন। পুরাতন তিন তলা ভবনের পেছনে দলিল লেখকদের টিনশেড স্থাপনা। টিনশেড স্থাপনাটি নতুন ভবনের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। এই টিনশেডের চাল বেয়ে কমপ্লেক্স ভবনের ভেতরে ঢোকে চোরের দল। এরপর নতুন ভবনের দোতলার কলাপসিবল গেটের গ্রিল কেটে পর্যায়ক্রমে দোতলায় বাড্ডা ও তৃতীয় তলায় উত্তরা থানার সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের তালা ও কক্ষ দুটির স্টিলের আলমারি ও ড্রয়ার  ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ নথিসহ মোটা অঙ্কের টাকা চুরি করে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ডিভিআরসহ নিয়ে যায়। এ কারণে সিসি ক্যামেরায় কোনো ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে কমপ্লেক্সের বাইরের একটি সিসি ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজে দুজনকে দেখা গেছে। পুলিশ এ দুজনকে সন্দেহে রেখে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের যে কোনো সময়ে তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লে­ক্সে চুরির ঘটনা ঘটে।