লক্ষ্মীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নিরব হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরকে মারধর করাসহ ঝাড়ু ও জুতার মালা গলায় পরিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। দোকান কর্মচারী ঐ কিশোরকে বর্তমানে সদর হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। নিরব ও তার স্বজনরা অভিযোগ করেন, নিরবের বেতনের টাকা পরিশোধ না করে উলটা তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার ভুক্তভোগীর নানি আলেয়া বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এদিকে ঝাড়ু ও জুতার মালা গলায় পরিয়ে কিশোরকে এলাকায় ঘুরানোর ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্নসহ এ ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। গত শনিবার বিকালে নিরব যে দোকানে চাকরি করত সেখানে টাকা চুরি হয়েছে—এমন অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জালালিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এরপর তাকে ছাড়িয়ে এনে দোকান (চামড়ার দোকান) মালিক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। এতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ মাতব্বররা ঐ কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করে তার (কিশোরের) জরিমানা করে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু এতিম ঐ কিশোরের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি নানা ও নানি। এতেই হট্টগোল শুরু হয়ে আবারও মারধর করে তাকে। রবিবার রাত ৯টায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ভুক্তভোগী কিশোরকে।
জানা যায়, ছয় মাস ধরে স্থানীয় রাশেদের চামড়ার দোকানে কাজ করত মৃত কিরন হোসেনের ছেলে নিরব। এরই মধ্যে সে তার মাকেও হারায়। দোকানে কাজ করলেও সে বেতন পেত না। তাই বাধ্য হয়ে সে মালিকের অগোচরে নিজের পাওনা টাকাই নেয় বলে দাবি করেছে সে।
তবে দোকান মালিক রাশেদ দাবি করেন, চুরি করে তার মূলধন আত্মসাত্ করায় নিজেসহ এলাকাবাসী তাকে শাস্তি হিসেবে ঝাড়ু ও জুতার মালা পরিয়ে দেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর শিপন ও সালিশদার ইসমাইল ঝাড়ু ও জুতার মালা পরিয়ে দেওয়ার ঘটনা সম্পর্কে অবহিত নন বলে দায় এড়াতে চান। এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোছলেহ উদ্দিন জানান, নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় দুই জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
