রাজপরিবার ত্যাগ ছাড়া উপায় ছিল না :প্রিন্স হ্যারি

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪১

ব্রিটেনের রাজসিংহাসনের দাবিদারদের অন্যতম প্রিন্স হ্যারি জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বাসের ওপর ভর করে রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। তিনি এক বক্তৃতায় বলেন, সত্যিকারে এছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না। সাবেক অভিনেত্রী স্ত্রী মেগানকে নিয়ে রাজকীয় উপাধি ও দায়িত্ব ত্যাগ করার ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রথম কোনো বক্তৃতা দিলেন প্রিন্স হ্যারি। হ্যারি জানিয়েছেন, তিনি পরিষ্কার করে বলতে চান যে তিনি ও মেগান রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন না। খবর বিবিসির

বক্তৃতায় প্রিন্স হ্যারি যা বলেছেন

লন্ডনে স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় আফ্রিকার এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের জন্য নিজের দাতব্য প্রতিষ্ঠান সেন্টেবালির তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে হ্যারি বলেন, ‘আমি অনুমান করতে পারি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনারা আমাদের বিষয়ে কী কী শুনেছেন। কিন্তু আমি চাই আপনারা আমার মুখ থেকেই সত্যটা শুনুন। আমি যতটা বলতে পারি, একজন রাজকুমার বা ডিউক হিসেবে না, কেবল হ্যারি হিসেবে।’ দাদি ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে নিজের ‘কমান্ডার ইন চিফ’ সম্বোধন করে প্রিন্স হ্যারি বলেন, তার প্রতি সব      সময় পরম শ্রদ্ধা থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল সরকারি অর্থ না নিয়ে রানি, কমনওয়েলথ এবং আমার সামরিক সংস্থার প্রতি দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা সম্ভব ছিল না। আমি এটা মেনে নিয়েছি, যদিও জানি এতে আমি কে বা আমার কতটা দায়িত্ববোধ আছে সেসবের কিছুই বদলাবে না।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য আমার বাড়ি এবং এই জায়গাটাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, এই অনুভূতি কখনো বদলাবে না।’

শনিবার রানি, রাজপরিবারের ঊর্ধ্বতন সদস্যগন এবং এই জুটির মধ্যে এক আলোচনায় হ্যারি ও মেগান একমত হয়েছেন, এখন থেকে তারা আর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করবেন না। আসছে বসন্ত থেকে তাদের নামের আগে রাজ উপাধি আর ব্যবহূত হবে না। আনুষ্ঠানিক সামরিক দায়িত্বসহ তাদের রাজকীয় সব দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হবে। যদিও বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাজপরিবার হ্যারি ও মেগানের জন্য নিজস্ব পৃষ্ঠপোষকতা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা চালিয়ে যাবে।

‘চ্যালেঞ্জের সময়’

ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা বক্তৃতায় প্রিন্স হ্যারি বলেন, ‘যখন আমাদের বিয়ে হয়, তখন আমরা খুবই উদ্দীপ্ত ও আশাবাদী ছিলাম এবং আমরা রাজপরিবারের সেবা করতে চেয়েছিলাম। সে কারণেই এটা ভেবে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে যে এটা আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমার স্ত্রী এবং আমার নিজের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব সহজ বা হালকা ব্যাপার ছিল না। বহু বছরের চ্যালেঞ্জের পরে বহু মাস ধরে কথাবার্তা চলার পর এবং আমি জানি আমি সব সময় সবকিছু ঠিকঠাক করতেও পারিনি। কিন্তু যেভাবে চলছিল, তাতে আসলেই এছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’