বেরোবি শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে সেই ‘বিতর্কিত’ শিক্ষক

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৩

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সেই বিতর্কিত শিক্ষক এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। গত রবিবার শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে তিনি এ পদে নির্বাচিত হন। ভিসির আশির্বাদপুষ্ট গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই শিক্ষকের নাম তাবিউর রহমান প্রধান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ও বাছাই বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী মেধা তালিকায় প্রথম গোলাম কাদির মণ্ডল যোগদান না করায় বাছাই বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী নজরুল ইসলামের পর অপেক্ষমান তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারকারী মাহামুদুল হকের নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু নিয়োগ বোর্ড তাবিউরের নাম সুপারিশ না করলেও অপেক্ষামান তালিকায় তৃতীয় হিসেবে তার নাম পরে লিখে জালিয়াতি করা হয় এবং প্রথম স্থান অধিকারকারীকে উপেক্ষা করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে ৭ বছর পর ঐ পদে মাহমুদুল হককে নিয়োগ দিতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ আছে, ক্ষমতার অপব্যহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগার থেকে এই মামলায় তাবিউর রহমানের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার জন্য ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে কীভাবে নিয়োগ দিয়েছে সেটা প্রশাসন বলবে। আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে আমি সবসময় শিক্ষকদের সুবিধার কথা চিন্তা করব।’

নীল দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আসাদ মণ্ডল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষককে তার পছন্দের প্রার্থী তাবিউর রহমানসহ অন্য প্রার্থীদের ভোট দিতে বাধ্য করেছেন বলে আমরা শুনেছি।

উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নতুন শিক্ষকদের বলা হয়েছিল তারা সবাই যাতে ভোট দিতে আসে এবং কেউ যেন ভোট নষ্ট না করে। নির্দিষ্ট কাউকে ভোট দিতে বলার প্রশ্নই আসে না।’