চীনের রহস্যময় ভাইরাস ছড়িয়েছে আরো তিন দেশে

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৩৪

চীনে রহস্যময় এক নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর আরো তিন দেশে সেটি ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। চীনের কর্তৃপক্ষ গত দুই দিনে ১৩৯ জন এই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। গত সপ্তাহেই সিঙ্গাপুর, হংকং, সান ফ্রান্সিসকো, লস এঞ্জেলস এবং নিউ ইয়র্কে চীন থেকে আগত ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা শুরু হয়। এবার বাংলাদেশেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং শুরু করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসির

ইউহানের পর চীনের নতুন নতুন শহরেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে আছে বেইজিং এবং শেনঝেন শহরের বাসিন্দারাও। এদিকে থাইল্যান্ড এবং জাপানের পর দক্ষিণ কোরিয়া গতকাল জানায়, সেখানেও একই ভাইরাসে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। মারা গেছে অন্তত তিন জন। চীনের কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, এই সংক্রমণ যে ভাইরাসের কারণে হচ্ছে—সেটি আসলে এক ধরনের করোনাভাইরাস। অনেক ধরনের করোনাভাইরাস রয়েছে, কিন্তু শুধু ছয় ধরনের ভাইরাস মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। নতুন ভাইরাসসহ এটি হবে সপ্তম। প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা দেয় সাধারণ সর্দি, কিন্তু মারাত্মক ধরনের সংক্রমণ বা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সংক্ষেপে সার্স হচ্ছে এক ধরনের করোনাভাইরাস। যাতে ২০০২ সালে ৮ হাজার ৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছিল এবং এদের মধ্যে ৭৭৪ জন মারা গিয়েছিল। ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য (জেনেটিক কোড) বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, মানুষকে আক্রান্ত করা অন্য করোনাভাইরাসের তুলনায় সার্সের সঙ্গে এটির বেশি মিল আছে।

ভাইরাসটা কি ছোঁয়াচে?

প্রাথমিকভাবে গবেষকরা বলছেন, যারা চীনের ইউহান শহরে মাছের বাজারে গিয়েছিলেন তারা এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। কিন্তু এমন কয়েকজন রোগী পাওয়া গেছে যারা কোনো মাছের বাজার বা বাজারেই যাননি। অবশ্য এই ভাইরাস সম্পর্কে এখনো খুব বেশি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ডা. সেবরিনা ফ্লোরা বলছিলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তারা আশঙ্কা করছে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। তবে এখনো এত বৃহত্ পরিসরে ভাবছে না সংস্থাটি। ভাইরাসটা ছোঁয়াচে কি না সেই ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। তিনি বলছিলেন যখন শ্বাসতন্ত্রের অসুখ হয় তখন হাঁচি, কাশি থেকে আরেকজন সংক্রমিত হতে পারে এটা ভেবে নিয়েই আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ যদি একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় তাহলে অতি দ্রুত সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশে সতর্কতা

ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বা আইইডিসিআর বলছে, তারা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে, কারণ চীন থেকে আসা সব বিমান এই বিমানবন্দর দিয়েই ওঠানামা করে। এছাড়া অন্যান্য বন্দরেও চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে এখনো করোনাভাইরাসে কারো আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. সেবরিনা বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে স্থাপিত হেলথ ডেস্কে এসব কর্মীদের পাঠানো হচ্ছে। যেসব ফ্লাইট চীন থেকে আসছে সেসব ফ্লাইটের যাত্রীদের স্ক্যানিং করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা-জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা এসব নিয়ে আসছেন তাদের চেক করা হচ্ছে। আইইডিসিআর চারটি হটলাইনও খুলেছে। আইইডিসিআর বলেছে, কারো শরীরে এর কোনো লক্ষণ দেখা গেলে তারা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখবেন।