রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, সন্ত্রাস-জঙ্গি ও দুর্নীতিমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় জাতি এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। গত ৯ জানুয়ারি চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে সরকারি দলের সদস্য আ স ম ফিরোজ তা সমর্থন করেন। ঐদিন একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ ও বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
গতকাল রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, সরকারি দলের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, আবদুল আজিজ, শহীদুল ইসলাম বকুল, মীর মোশতাক আহমেদ রবি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) গোলাম কিবরিয়া টিপু।
তোফায়েল আহমেদ আলোচনায় অংশ নিয়ে বাঙালি জাতির মুক্তি ও মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, আত্মত্যাগ সর্বোপরি স্বাধীনতার ঘোষণা, তার আহ্বানে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে ঘাতকরা নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল। তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সেই স্বপ্নের সোনার বাংলার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখল থেকে ১০০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে এ পর্যন্ত ৯২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইর্ষান্বিত হয়ে পঁচাত্তরের খুনি চক্র আবার বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বিমান এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপলাভ করতে যাচ্ছে। সবকটি বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ চলছে। উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের অন্যান্য সদস্যরা বলেন, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ণ এবং সমাজের সকল স্তরে জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ বছর আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব।
