অলোক কুমার মিস্ত্রী, প্রভাষক
জীববিজ্ঞান বিভাগ
সরকারি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, পিরোজপুর।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের ৩ অধ্যায় কোষ রসায়ন -বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করব, যা ২০২০ সালের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ঃ সুমনা কাপড় কাঁচার সময় দাগ উঠানোর জন্য এক ধরণের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করল, যাতে কাপড়ের ও ত্বকের তেমন কোন ক্ষতি হয় না।
(ক) শর্করা কী ? ১
(খ) মানুষ সেলুলোজ হজম করতে পারে না, কিন্তু গবাদি পশু পারে কেন? ২
(গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত রাসায়নিক উপাদানটি কীভাবে কাজ করে?-ব্যাখ্যা কর। ৩
(ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত উপাদানটি বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজের মূল চালিকা শক্তি-এর স্বপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ঃ
(ক) শর্করা : কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন সমন্বয়ে গঠিত যে সকল যৌগে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত ২ ঃ ১ কেবলমাত্র সে সকল জৈব যৌগকে শর্করা (Carbohydrate) বলে।
(খ) উত্তর : মানুষের পাকস্থলী কিংবা অন্ত্রে সেলুলোজ হজমকারী এনজাইম বা উেসচক থাকে না। কিন্তু গবাদি পশুর অন্ত্রে এক প্রকার বিশেষ ব্যাকটেরিয়া সেলুলোজ জাতীয় খাদ্য ঘাস, তরু লতাপাতা হজমকারী এনজাইম উত্পন্ন করে,যা গবাদি পশু তথা গরু-ছাগল, ভেড়ার খাদ্য গ্রহনকারী সেলুলোজ জাতীয় ঘাস হজম করতে সক্ষম। প্রকারান্তরে, ঐ সকল সেলুলোজ ভেঙে তাদের দেহে গ্লুকোজ অণুতে রূপান্তরিত হয়ে দেহের রক্তে মিশে যায়। আর সকল কারণেই, মানুষ সেলুলোজ হজম করতে পারে না, কিন্তু গবাদি পশু পারে।
(গ) উত্তর ঃ উদ্দীপকে উল্লেখিত সুমনার ব্যবহূত রাসায়নিক উপাদান হলো এক প্রকার বিশেষ প্রোটিন, যা উেসচক বা এনজাইম নামে পরিচিত। নিম্নে এর ক্রিয়া কৌশল রূপায়িত করা হলোঃ- কোন নির্দিষ্ট এনজাইমের এক বা একাধিক সক্রিয় স্থান বা অ্যাক্টিভ সাইট থাকে। বিজ্ঞানী এমিল ফিসার এই অ্যাক্টিভ সাইড প্রস্তাব করেন। পলিপেপটাইড চেইনের ফোলডিং এর মাধ্যমে অ্যাক্টিভ সাইট সৃষ্টি হয়। অ্যাক্টিভ সাইট ও সাবস্ট্রেট এর মধ্যে সম্পর্ক হলো লক এন্ড কি এর মতো সুনির্দিষ্ট।
১. প্রথমে সাবস্ট্রেট অণু এনজাইমের সক্রিয় স্থান তথা অ্যাকটিভ সাইটে সংযুক্ত হয়ে এনাইম সাবস্ট্রেট যৌগ গঠন করে।
২. দ্বিতীয় পর্যায়ে এনজাইম ও সাবস্ট্রেট যৌগ ভেঙে গিয়ে নতুন পদার্থ সৃষ্টি করে এবং এনজাইম অপরিবর্তিত থেকে সাবস্ট্রেট থেকে পৃথক হয়ে যায়। আর যেকোন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা অতিরিক্ত কার্যকর শক্তি অর্জন করতে হয়। এনজাইম-সাবস্টেট এর কার্যকর শক্তি কম। তাই কম কার্যকরী শক্তি সম্পন্ন সাবস্ট্রেট অণু এনজাইমের সাথে সংযুক্ত হয়ে এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ গঠন করে। ফলে বিক্রিয়ার হার বেড়ে যায়। একটা সময় এভাবে এনজাইমের ক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে।
(ঘ) উত্তর : উদ্দীপকে উল্লেখিত সুমনার ব্যবহূত রাসায়নিক উপাদান হলো উেসচক বা এনজাইম, যা শারীরবৃত্তীয় কাজের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। নিম্নে বিভিন্ন ধরণের এনজাইমের কাজের ভিন্নতা তুলে ধরা হলো-
১. প্রোটিওলাইটিক এনজাইম প্রোটিনকে সংশ্লেষ করে থাকে।
২. অ্যামাইলোলাইটিক এনজাইম শ্বেতসারকে সংশ্লেষ করে থাকে।
৩. লাইপোলাইটিক এনজাইম চর্বি বা লিপিডকে সংশ্লেষ করে।
৪. নিউক্লিয়েজ নিউক্লিক এসিডকে সংশ্লেষ করে
৫. ইনভার্টিং এনজাইম দ্বি-শর্করাকে ভেঙে সরল শর্করায় রূপান্তরিত করে।
৬. অক্সিডোরিডাক্টেজ এনজাইমসমূহ শ্বসন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিপাকীয় ক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৭. ট্রান্সফারেজ এনজাইম দুটি সাবস্ট্রেট এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ স্থানান্তর করে যা বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৮. আইসোমারেজ এনজাইম জৈব অণুসমূহকে আইসোমারাইজেশনের মাধ্যমে শারীরবৃত্তীয় কাজের উপযোগী যৌগ সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
৯. লাইগেজ এনজাইম ATP এর সহায়তায় দুই বা ততোধিক সাবস্ট্রেটকে যুক্ত করে নতুন যৌগ গঠন করে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সকল ধরণের বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজের মূল চালিকা শক্তি হলো উেসচক বা এনজাইম।
