সুন্দরবনের শুঁটকিপল্লিতে নেই খুশির আমেজ

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০৮

তীব্র শীতের সঙ্গে কুয়াশা ও বৃষ্টি

মো. হুমায়ুন কবির, কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা

মাছ আহরণ মৌসুমে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের দুবলা জেলে পল্লিসহ আশপাশের শুঁটকিপল্লিতে নেই খুশির আমেজ। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও তীব্র শীতের সঙ্গে কুয়াশা ও বৃষ্টির কারণে সাগর থেকে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না বলে দাবি জেলেদের। ফলে মাছ না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত শুঁটকি আহরণ নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে শুঁটকি সংশ্লিষ্টদের। উত্পাদন কম হওয়ায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার রাজস্ব অর্জন নিয়ে শঙ্কিত বন বিভাগ। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন উপকূল দুবলার চরে অক্টোবর থেকে মার্চ এই পাঁচ মাসব্যাপী চলে শুঁটকি আহরণ। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ থেকে নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে পাশ-পারমিট নিয়ে ডিপোমালিক, বহরদারসহ কয়েক হাজার জেলে শুঁটকির জন্য সাগরে মাছ আহরণ করেন। এ বছর সুন্দরবনের পাঁচটি চরে ৫৩টি ডিপোমালিক, ১০৪০টি জেলে ঘরে প্রায় ২০ হাজার জেলে শুঁটকির জন্য মাছ আহরণ করছে। কিন্তু গত বছরের ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে শুঁটকি নষ্ট হওয়া এবং ডিসেম্বরের শেষের দিকে শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে বৃষ্টি হওয়ায় উত্পাদন কমে গেছে।

দুবলার চরের বহরদর ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে সাগরে যার কারণে উত্পাদন এত কম যে আমাদের পুঁজিই টিকবে না। আর সম্প্রতি কুয়াশার কারণে আরেক সমস্যায় পড়েছে মাছ আহরণ করা জেলেরা। কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামের জেলে এবাদুল হক বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মাছের উত্পাদন কম। যে মাছ পাচ্ছি তার আকার-আকৃতিও ছোটো। দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বছর জেলেদের লক্ষ্যমাত্রা কোনোভাবেই পূরণ হবে না। তবে মৌসুমের বাকি দিনগুলোতে যদি আবহাওয়া ভালো থাকে এবং মাছ বেশি পাওয়া যায় তাহলে কিছু ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বুলবুল ও শীতের কারণে জেলেরা গেল বছর থেকে মাছ কম পাচ্ছে। গেল বছর ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত যেখানে রাজস্বের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪১ লাখ সেখানে এ বছর একই সময়ে সে রাজস্ব মাত্র ১ কোটি ৩ লাখ। গেল বছর আমাদের রাজস্ব আদায় ছিল ২ কোটি ৬৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৯ টাকা।