ড. মো. হুমায়ুন কবীর
আব্দুল মান্নান। তিনি একজন প্রথিতযশা কৃষিবিদ। এ নামটির সঙ্গে একটি ত্যাগের মহিমা নিহিত রয়েছে। তিনি ১৯৫৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার হিন্দুকান্দি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মরহুম জালাল উদ্দিন সরদার। গ্রামীণ পরিবেশে বড়ো হয়ে তিনি পড়তে আসেন বাংলাদেশের কৃষিশিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে তার ডাকে তিনি শৈশবে ছাত্রাবস্থাতেই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে কাজ করার গৌরব অর্জন করেন।
সারাদেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তার নেতৃত্বে সংগঠিত হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মনোনয়নে মান্নান-প্রদীপ প্যানেল বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়—যেখানে আব্দুল মান্নান ভিপি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় হয়ে উঠতে থাকেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা সারাদেশের একজন ছাত্রনেতা। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। তারা ১৯৮৩-৮৫ সময়ে এ গৌরবময় সংগঠনটির নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় সে সময়কার স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন।
আমৃত্যু তিনি এমপি হিসেবে নিজ এলাকার ভোটারদের জন্য তো বটেই সারাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। বগুড়ার মানুষ হলেও ময়মনসিংহের মানুষের প্রতি ছিল তার বিশেষ টান। তাছাড়া কৃষিবিদ কমিউনিটি বলতে একেবারে অজ্ঞানই বলা চলে। যখনই কোনো কৃষিবিদ যে কোনো কাজে তার কাছে যেতেন, নিজ এলাকার চেয়েও বেশি গুরুত্ব সহকারে দেখতেন তাদের সমস্যা। সমাধানও দিতেন সেভাবেই। পেশাগত জীবনে তিনি আমাদের সবার প্রিয় পেশাজীবী সংগঠন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের দুইবারের মহাসচিব ছিলেন। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা আদায়সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কৃষিবিদদের প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করেছেন সর্বদা এ কৃষিবিদ নেতা।
তিনি এমপি হিসেবে প্রতিবারই কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়ে কৃষিবান্ধব নীতি প্রণয়নে অবদান রেখেছেন। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে তার অবদান অনস্বীকার্য।
সর্বদা সদালাপী, নিরলস, সরলপ্রাণ, পরোপকারী, নির্লোভ, চেতনাবাদী নিবেদিত প্রাণ এমন রাজনীতিক আজকের দিনে বিরল। যা হোক তিনি পরপারে ভালো থাকুন এ প্রত্যাশাই করি। আর তাকে হারানোর এ অপূরণীয় ক্ষতি কখনোই পোষণীয় নয়। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
n লেখক: ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
