বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পথে প্রধান বাধাগুলোই হলো জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি আর অপরাজনীতি। এই বাধাগুলো অতিক্রম করতে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে সারা দেশেই অভিযান চলছে। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট সফলতা পাওয়া গেলেও মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশা অনুযায়ী সফলতা অর্জন করা খুবই কঠিন। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অনেকেই অত্যন্ত বিত্তশালী, প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিকভাবেও ক্ষমতাবান। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা ছাড়াও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকেই ব্যাপক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড়ো অন্তরায় হলো দুর্নীতি আর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। কাজেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে অবশ্যই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান থেকেই অনুমান করা যায়, এ ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিবাজরা রয়েছে। এরা দেশ ও জাতির শত্রু, এদেরকে কোনো দলেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে না পারলে এই অভিযানের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তোলা সম্পদ ও বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধার করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এই অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক হওয়ায় দেশের বিরুদ্ধে যে কোনো ঝুঁকি ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সরকার ও জনগণকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা আশা করি, সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সারা দেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলবে প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত।
বিপ্লব বিশ্বাস
ফরিদপুর
