মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চার জন সংসদ সদস্যের চলে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৮

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বর্তমান সংসদের চার জন সংসদ সদস্য মারা গেলেন। এটা সত্যিই আমাদের দুর্ভাগ্য। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবেগজড়িত কণ্ঠে আরো বলেন,               মানুষ জন্ম নিলে মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত কষ্টের, বেদনার। প্রয়াত সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেম ছিল অসামান্য। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। পরে প্রয়াত সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন এবং মোনাজাত শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের বাকি কার্যক্রম স্থগিত রেখে আজ বুধবার বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, সরকারি দলের কাজী নাবিল আহমেদ, ওয়াশিকা আয়েশা খান, আকম সারোয়ার জাহান ও জাতীয় পার্টির (এ) রওশন আরা মান্নান ।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের সংসদের দুর্ভাগ্য পরপর চার জন সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার, ডা. মোজাম্মেল হক, আবদুল মান্নান এবং সবশেষ আজ (মঙ্গলবার) ইসমাত আরা সাদেক মারা গেলেন। ইসমাত আরা সাদেক অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সব কাজ করতেন। তার সবচেয়ে বড়ো গুণ ছিল সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতা। মিসেস সাদেক একজন গৃহিণী ছিলেন। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে জড়িত থাকলেও কখনো রাজনীতিতে খুব সক্রিয় ছিলেন না। তার স্বামী প্রয়াত এ এস এইচ কে সাদেক শিক্ষা মন্ত্রী থাকাকালে অনেক কাজ করে গেছেন। সুন্দরবনকে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণার ক্ষেত্রেও তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী সাদেকের মৃত্যুর পর মিসেস সাদেককে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুরোধ করলাম এবং ঐ নির্বাচন করে জিতে আসার পর প্রথমে তাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলাম। তখন আমি বলেছিলাম আমি আছি আপনার সঙ্গে, কোনো চিন্তা নেই। এরপর প্রতিটি কাজ তিনি অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সততার সঙ্গে করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ইসমাত আরা সাদেককে জনপ্রশাসনের দায়িত্ব দিলাম। তখনো তিনি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন। প্রতি সপ্তাহে তার সঙ্গে বসতাম। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি কাজ করতেন। কেশবপুরের উন্নয়নে উনি অনেক কাজ করে গেছেন। তবে তিনি এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন ভাবতেও পারিনি।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইসমাত আরা সাদেক অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। তার স্বামী প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেকও ছিলেন অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত ও অভিজাত পরিবারের সদস্য। আমাদেরকেও চলে যেতে হবে। কিন্তু পরপর আমাদের কয়েক জন সংসদ সদস্য মারা গেলেন। এটা অত্যন্ত কষ্টের ও বেদনার।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ইসমাত আরা সাদেক সব সময় আমাদের মাতৃস্নেহে কথা বলতেন, পরামর্শ দিতেন। তার স্বামীর মতো তিনিও অত্যন্ত সাদামনের মানুষ ছিলেন।

সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, প্রয়াত ইসমাত আরা সাদেকের পরিবারের সঙ্গে আমাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তার কথাবার্তা ও চাল-চলনে আভিজাত্য ছিল।

জাতীয় পার্টির (এ) রওশন আরা মান্নান বলেন, হঠাত্ করেই পরপর কয়েক জন এমপির মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করে তুলেছে।