ল্যাবএইড ও কনকর্ড আর্কেডিয়ার দ্বন্দ্ব

দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৪৬

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ল্যাবএইড হাসপাতাল ও কনকর্ড আর্কেডিয়া শপিং মলের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গতকাল মঙ্গলবার এ সংঘর্ষের সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উভয়পক্ষের চার জনকে আটক করে। এদিকে ঐ ঘটনায় পথচারী ও হাসপাতালের রোগীর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ল্যাবএইড হাসপাতালের কর্মীরা জানান, গতকাল দুপুরে কনকর্ড আর্কেডিয়া ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে থাকা তাদের দোকান খুলে শ্রমিকরা পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করে। এ সময়ে ঐ ভবনের মালিক সমিতির লোকজন হাসপাতাল কর্মীদের দোকান খুলতে বাধা দেন। এ ব্যাপারে ল্যাবএইডের জনসংযোগ কর্মকর্তা চৌধুরী মেহের-ই-খুদা দীপ জানান, শপিংমলের মালিক সমিতির সভাপতি সানাউল হক মীর ও সেক্রেটারি মোক্তার হোসেনের নির্দেশে শ্রমিকদের কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তাদের মারধরও করা হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে মার্কেট সমিতির ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে সমিতির সভাপতি সানাউল হক তার পিস্তল বের করে হাসপাতালের নিরাপত্তা ইনচার্জ নাসির উদ্দিন তাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও মাথায় আঘাত পান। পরে মালিক সমিতির লোকজন হাসপাতালের ক্যাফেটেরিয়ায় ভাঙচুর করে।

অপরদিকে কনকর্ড আর্কেডিয়া শপিং মলের মালিক সমিতির নির্বাহী সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, ভবনটিতে ল্যাবএইডের কিছু দোকান থাকলেও তারা সার্ভিস চার্জ দিচ্ছিল না। তা না দিয়েই দোকান খুলতে গেলে মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। তখন হাসপাতালের শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সমিতির সভাপতি হামলার শিকার হলে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল বের করেন। হাসপাতাল কর্মীদের হামলায় তাদের নিরাপত্তাকর্মী ও সদস্যসহ অন্তত ছয় জন আহত হন।

এদিকে পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান জানান, উভয় পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উভয় পক্ষের চার জনকে আটক করা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, দোকান ভাড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐ সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। মামলা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।