রাজধানীর গাবতলীতে নির্বাচনি প্রচারণায় হামলার অভিযোগ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেছেন, ‘নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী-সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ঠেলাগাড়ি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী মজিব সারোয়ার মাসুম উপস্থিত থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ওপর, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর ‘জঘন্যভাবে’ আক্রমণ করেছে।’ অভিযোগে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার জন্য সংশ্লিষ্ট দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সাময়িক বরখাস্ত ও প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুলের কাছে অভিযোগ দেন তার প্রতিনিধি মো. জুলহাস উদ্দিন।
অপরদিকে, তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার বিষয়ে এখনো শুনিনি। তারা নিজেরা সংঘর্ষ বাধাতে পারেন।’
ইটিআইয়ে রিটানিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া আভিযোগে বলা হয়, ‘মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে আমি সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধান পালন করে নির্বাচনি প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড এলাকা তথা কোটবাড়ি, ব্লজারপাড়া, হরিরামপুর, গোলারটেক, জহুরাবাদ ইত্যাদি এলাকায় পথসভা, ঘরোয়া সভা অনুষ্ঠান ও গণসংযোগে যাই। প্রচারণাকালে আমার সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতাকর্মী-সমর্থকও ছিলেন। এই পথসভা, ঘরোয়া সভা অনুষ্ঠান ও গণসংযোগ পূর্ব নির্ধারিত ছিল, যা আগেই আইনানুগভাবে সংশ্লিষ্ট দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু হঠাত্ আমার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আমি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাই। শারীরিক নির্যাতনে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হই। আমার নেতৃবৃন্দ ও কর্মী-সমর্থকগণ আহত হয়। এ নির্যাতন ও আক্রমণের সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিষ্ক্রিয় ছিল। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যদি আইনানুযায়ী আরো সক্রিয় থাকত তাহলে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। আমি গত ১২ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের বরাবরে অভিযোগ জানিয়ে প্রার্থী হিসেবে আমার নিরাপত্তা প্রদানের অনুরোধ করি। এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলেই এ ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।’
তাবিথের ওপর হামলার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, উত্তরের বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার পর তিনি তাত্ক্ষণিক অভিযোগ করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব ব্যাপারে দারুস সালাম থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনি গণসংযোগের বিষয়টি আগে পুলিশকে অবহিত করা হয়নি। বরং ঘটনা জানার সঙ্গে তাত্ক্ষণিক পরিদর্শক (তদন্ত), পরিদর্শক (অপারেশন্স)সহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তাই এখানে পুলিশের কোনো গাফিলতি হয়নি।
