এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সিএএ বিরোধী প্রস্তাব

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৪৯

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরোধিতা করে তৃতীয় রাজ্য হিসেবে এটি বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। আগামী ২৭ জানুয়ারি বিধানসভার এক বিশেষ অধিবেশনে প্রস্তাব তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে কেরালা ও পাঞ্জাবের বিধানসভায় সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাশ হয়। খবর এনডিটিভি’র

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, সিএএ বিরোধী প্রস্তাব তিন-চার দিনের মধ্যে পাস হওয়া উচিত। এরপরই হুট করে বিশেষ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত চমকে দিয়েছে সিপিআই (এম) ও কংগ্রেসকে। কেননা, গত ৯ জানুয়ারি বিরোধীরা সিএএ বাতিলের প্রস্তাব পেশ করতে চাইলে মমতা তা খারিজ করে দেন। সেদিন বিধানসভায় মমতা বলেন, তিনি ১৩ জানুয়ারি সোনিয়া গান্ধির ডাকা সর্বদল বৈঠকেও যাবেন না। সেই বৈঠকের বিষয় ছিল সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি হিংসার রাজনীতিকে সমর্থন করেন না, যা কংগ্রেস ও সিপিআই(এম) রাজ্যে করছে। প্রসঙ্গত, মমতা ‘ভারত বন্ধ’র (হরতাল) দিন হওয়া সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

মমতার এমর বক্তব্যের পর বাম দলগুলো এবং কংগ্রেস দাবি করেছিল, সিএএ কে কেন্দ্র করে বিজেপি-বিরোধী যে বিরোধী ঐক্য, তাকে ধ্বংস করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনবাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ভারত অগ্রাধিকার দেয়: প্রেসিডেন্ট কোবিন্দ

এদিকে কংগ্রেস সংসদ সদস্য অধীর চৌধুরী মমতার সিদ্ধান্তের কথা শুনে মন্তব্য করেছেন, ‘বেটার লেট দ্যান নেভার।' অন্যদিকে সিপি (আই) এম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘সরকারের এটা রেকর্ড রাখা উচিত যে আমরা গত ৯ জানুয়ারি সিএএ বাতিলের প্রস্তাব আনতে চেয়েছিলাম। এখন, কেরালা ও পাঞ্জাবের পর হঠাৎ এটা করা হচ্ছে।’ 

উল্লেখ্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী।

ইত্তেফাক/এসইউ