ভাস্কর নভেরা আহমেদকে শহিদ মিনারের নকশাকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল নভেরাকে নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে নভেরা আহমেদের নামে রাজধানীর একটি সড়কের নামকরণের দাবিও ওঠে এ অনুষ্ঠান থেকে। আনা ইসলাম নভেরা আহমেদকে নিয়ে গ্রন্থ লিখেছেন। সেই গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শহিদ মিনারের স্থপতি হিসেবে নভেরা আহমেদের নাম ঘোষণার দাবি জানান লেখক।
ভাস্কর নভেরা আহমেদের রহস্যঘেরা জীবন অনুসন্ধান করেছেন শিল্পসমালোচক আনা ইসলাম। শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের স্ত্রী আনা ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে প্যারিসে বাস করছেন। নভেরা আহমেদও প্যারিসের উপকণ্ঠে বসবাস করতেন। নভেরা আহমেদকে প্রায় দুই দশকের এই অন্বেষণে তিনি রচনা করেছেন ‘নভেরা : বিভুঁইয়ে স্বভূমে’ গ্রন্থটি। গতকাল শাহবাগের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বইটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ ও জার্নিম্যান বুকস।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শামসুজ্জামান খান। আলোচনা করেন নভেরা আহমেদের স্বামী গ্রেগোয়ার দ্য ব্রুনস, শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, শিল্পসমালোচক মঈনউদ্দীন খালেদ এবং গ্রন্থের লেখক আনা ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জার্নিম্যান বুকস এর সিইও তারিক সুজাত। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অন্যপ্রকাশ এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় প্রয়াত নভেরা আহমেদের শেষ সাক্ষাত্কার নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র।
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ভাস্কর্য চর্চার ক্ষেত্রে নভেরা পথিকৃত্। শহিদ মিনারের সঙ্গে তার সংযোগ, তার যে সৃষ্টি—তা ভোলার মতো নয়। তার সময়ের চেয়ে নভেরা অগ্রবর্তী মানুষ ছিলেন। শ্রমলব্ধ বইটির মধ্য দিয়ে নভেরার জীবন ও কর্মের সবটাই উঠে এসেছে। বইটি নতুন করে নভেরাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।
শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, উপমহাদেশে নভেরার মতো ভাস্কর এখনো আসেনি। তিনি যে কতটা প্রাগ্রসর ছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় শহিদ মিনারের নকশায়। ভাষা আন্দোলনের শহিদ মিনারের অনুপ্রেরণাতেই বাংলাদেশের সৃষ্টি।
গ্রেগোয়ার দ্য ব্রুনস বলেন, শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে নভেরাকে কোনো নিয়ম বাঁধতে পারত না। মঈনুদ্দিন খালেদ বলেন, শহিদ মিনারের নকশাকার নভেরা আহমেদের জীবনের সত্য জানতে বইটি সহায়ক হবে। এটি একটি সত্যনিষ্ঠ দলিল। বইটির মূল্য ১ হাজার ৫০০ টাকা।
