নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে চায়ের-চাষ বাড়ছে!

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০১

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চা-চাষ বাড়ছে। সরকারি খাস জমিতে ও ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে অস্যংখ্য চায়ের-বাগান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে পঞ্চগড় চা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনর্বাসিত ভিক্ষুক-দারিদ্র্য মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে কিশোরগঞ্জে  প্রাথমিকভাবে এক একর জমিতে প্রায় ৭ হাজার চায়ের-চারা গাছ রোপণ করা হয়। অল্প দিনের মধ্যে সেই চা-চাষে সাফল্য পাওয়ার পর উপজেলা পরিষদের প্রায় পাঁচ একর জমিতে এবং ব্যক্তি মালিকানায় ৩২ বিঘা জমিতে চায়ের-চাষ শুরু করা হয়। এছাড়াও মাগুড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক বিঘা জমি ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের ১৫ শতক জমিতে চায়ের-চাষ করা হয়। সবমিলিয়ে প্রায় ২০ একর জমিতে এখন চায়ের-চাষ হচ্ছে।  আর এসব চা-বাগানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন করে শ্রমিক কাজ করছেন।

চা-বাগানে কর্মরত পুঁটিমারী ইউনিয়নের ভেড়ভেড়ি গ্রামের পুনর্বাসিত ভিক্ষুক  ফাতেমা বেগম বলেন, উপজেলা পরিষদের চা-বাগানে ৩০ টাকা ঘণ্টা দরে কাজ করে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করছি। 

বাংলাদেশ চা বোর্ডের নর্দান বাংলাদেশ প্রজেক্টের কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত প্রকল্প প্রকৌশলী আবু হেনা ময়নুল ইসলাম জানান, চা-চাষের জন্য এ এলাকার মাটি খুবই উপযোগী। পাহাড়ি অঞ্চলে যেখানে তিন বছরে পাতা উত্তোলন শুরু হয়, সেখানে এ এলাকায় দেড় বছরে পাতা উত্তোলন হচ্ছে।  চলতি বছরে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আরো এক লাখ চারা বিতরণ ও রোপণ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।  উপজেলা পরিষদে সরকারিভাবে চা-নার্সারি তৈরির কাজ চলছে। এছাড়াও ২০২০ সালের মধ্যে নীলফামারী জেলায় ২৫ হেক্টর জমি চা-চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, চা একটি অর্থনৈতিক ফসল। এ অঞ্চলের ভূমি সমতল হওয়ার কারণে চায়ের চাষ কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তুলনামূলকভাবে চা-চাষে পরিচর্যা কম এবং আয় বেশি পাশাপাশি রোগ বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, চা-চাষের ফলে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৫০ জন ভিক্ষুকের পাশাপাশি শতাধিক অসহায় দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে চা-চাষের জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।