আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থান এখন অনেক উঁচুতে ------আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৩

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থান এখন অনেক উচ্চে। গত ১০/১১ বছরে বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। নতুন প্রজন্ম আজ বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান তথা মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক। ‘নাসা’সহ বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশ মানে হলো দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতা। 

তিনি গতকাল বুধবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় বিহারী লাল মৈত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চতুর্থ উপজেলা স্কাউট সমাবেশ ২০২০ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমাদের ভবিষ্যত্ অবশ্যই সুন্দর। আমরা যে বাংলাদেশ গঠন করেছিলাম তখন আত্মসম্মানবোধের ক্ষেত্রে  অনেক পিছিয়ে ছিলাম; কিন্তু আজকের প্রজন্ম একটি স্বাধীন দেশের       নাগরিক পরিচয়ে আগামীতে জাতিকে উচ্চ শিরে নেতৃত্ব দানে নিজেদের উপযোগী করে চলছে। দেশ ও মানুষের সেবার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কৈশোর থেকে হাতেকলমে শিক্ষাগ্রহণে স্কাউটিং হচ্ছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম।

শৈশবে কাব ও কৈশোরে স্কাউটিংয়ের সঙ্গে নিজের সক্রিয় সম্পৃক্ততার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, স্কাউটিংয়ে দীক্ষা নেওয়ার সময় যে শপথবাক্য পাঠ করেছিলাম তা আজও আমার মানসপটে ভাস্বর হয়ে আছে। ‘আমি আমার আত্মমর্যাদার ওপর বিশ্বাস রেখে, সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে শপথ করছি যে, আমি নিজেকে দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত রাখব’—এই শপথবাক্য আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করে। শপথবাক্যে উচ্চারিত এই সেবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে হচ্ছে রাজনীতি তথা দেশসেবা। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা কেউ কেউ নিজের সম্মান সম্পর্কে সচেতন নই। মানুষ আমাদের কাজ নিয়ে অনেক সময় তীর্যক কথা বলে। নতুন প্রজন্মকে এই শপথের কথা মনে করে শুধু জনসেবা বা দেশসেবায় ব্রতী হলেই চলবে না, ধার্মিকও হতে হবে। দেশসেবার জন্য আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হতে হবে, যে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে না তার সম্মান থাকে না। একজন ভিক্ষুকের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ বা ব্যক্তিত্ববোধ থাকে না। এ সব গুণ অর্জনে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপাড়া করার পরও আর্থিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যায়। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বলে অর্জিত শিক্ষাজীবনের কী কাজে লাগবে, কোথায় কার্যকর হবে, কোথায় ব্যবহার করতে হবে—সে সম্পর্কে অনেকের ধারণার অভাব রয়েছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্কাউট আন্দোলনের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমের আবশ্যকতা অপরিসীম। যারা স্কাউটিং করে তাদের মধ্যে জ্ঞান, মেধা, দেশাত্মবোধ, প্রশিক্ষণজাত অভিজ্ঞতা, সদাচরণ, আনুুগত্য, ভদ্রতাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য জন্ম নেয়। পাশাপাশি নিয়মিত লেখাপড়ার মাধ্যমে দায়িত্ববোধ, বিনয়, অহংবোধ  জাগ্রত হয়।

এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্কাউট সমাবেশ প্রধান ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল আলমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সমাবেশের শিবির প্রধান ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি জাতীয় পতাকা ও ইউএনও মো. নাজমুল আলম সমাবেশ পতাকা উত্তোলন করেন। ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা স্কাউট সমাবেশে ১৪টি বিদ্যালয় থেকে কাব, বয় স্কাউট ও গার্ল ইন স্কাউট এবং স্কাউটার নিয়ে ২০০ অংশগ্রহণকারী রয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এ সমাবেশ চলবে। এ অনুষ্ঠানে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেপির উপজেলা আহ্বায়ক মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, জেপির সদস্যসচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। 

কৃষি উপকরণ বিতরণ

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এর আগের এক অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এখানে তিনি বলেন, আমরা যদি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে না পারি তাহলে ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তাঘাট নির্মাণ অর্থহীন হয়ে যাবে। এ এলাকার মানুষ কৃষি উত্পাদনে এখনো পিছিয়ে আছে। মানুষ এখনো কৃষিকাজে অলস রয়ে গেছে। এ অঞ্চলের মানুষের কৃষিতে অনীহার কারণ কী তা খুঁজে বের করতে হবে। উত্তর বঙ্গে ১৪/১৫ বছর আগেও খাদ্যের অভাব ছিল, আজ নেই। উত্তর বঙ্গের মতো আমাদের এ অঞ্চলেও কৃষিতে বহুমুখীকরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফলসহ বৈচিত্র্যময় কৃষি আবাদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। যার যার খাদ্য নিজেদেরই তৈরি করতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যতে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। আল্লাহ কাজ করে জীবন ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের এলাকায় আল্লাহর অসীম রহমতে জমি ও পানির মান ভালো, যা কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, ভাণ্ডারিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের সুফল কাজে লাগিয়ে ফসল উত্পাদন ক্ষেত্রে আগামীতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে ।

উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে রবি মৌসুমে ভুট্টা, শীতকালীন/গ্রীষ্মকালীন মুগ ও বসতবাড়ির আশপাশে শাকসবজির উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এ ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ৭৭০ কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. নাজমুল আলমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন।