ছাত্রসংগঠনের বিরোধের জেরে বন্ধ ছাত্রাবাস

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৫

চট্টগ্রামের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যেসব কলেজে ছাত্রাবাস রয়েছে সেগুলোও ছাত্রসংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের কারণে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ছাত্রাবাসগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দরজা, জানালা ও দেওয়াল জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারি কলেজের হোস্টেল বন্ধ থাকায় নগরীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অসংখ্য ছাত্রাবাস চালু করা হয়েছে।

গত পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজের সাতটি ছাত্রাবাস বন্ধ রয়েছে। ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাতের জেরে ঐতিহ্যবাহী দুটি কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধ। এছাড়া ছাত্রসংগঠন দুটির বিরোধের কারণে চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্য কলেজের ছাত্রাবাসও গত ২০-২৫ বছর যাবত্ বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ছেলে ও মেয়েদের পাঁচটি হোস্টেল গত পাঁচ বছর ধরে বন্ধ। এসব হোস্টেলে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসনব্যবস্থা রয়েছে। এই কলেজে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৭টি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স চালু রয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ মুজিবুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখন হোস্টেল খোলা নিয়ে কোনো সমস্যা দেখছি না। তবে কয়েক দিন আগে বন্ধ হোস্টেল পরিদর্শনে গিয়ে দেখি জরাজীর্ণ অবস্থা। এগুলো এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দরজা, জানালা ভেঙে গেছে। দেওয়াল ও ছাদ ধসে পড়ছে। অবস্থা এমন একটি হোস্টেল ১ কোটি টাকা খরচ করেও ব্যবহার উপযোগী করা যাবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনার নামে নতুন একটি হোস্টেল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কয়েক মাস  পর এটি চালু করা হবে।’

সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজের দুটি ছাত্রাবাসও গত পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ছাত্রাবাস ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। ১৪টি বিষয়ে অনার্স ও ১২টি বিষয়ে মাস্টার্স রয়েছে মুহসিন কলেজে। কলেজের শিক্ষক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দুটি হোস্টেল বন্ধ রয়েছে। এগুলো অন্য কোনো কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্য কলেজের ছাত্রাবাসটি ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়।