বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শুরু

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৮

অবশেষে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভাঙা শুরু হয়েছে হাতিরঝিল প্রকল্পের বিষফোড়া বিজিএমইএ ভবন। গতকাল বুধবার ভবন ভাঙার কাজ উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

ভবন ভাঙার কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে দুটি টিম। ভবনটি ভাঙার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করবে বুয়েট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, রাজউক, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিসহ নগর ও ইমারত বিশেষজ্ঞদের একটি টিম। এছাড়া রাজউকের নিজস্ব একটি টিমও এ কাজ নিয়মিত দেখাশোনা করবে।

রাজউকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শেষ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ। ভবনটি ভাঙার কাজে ব্যবহার করা হবে এক্সেভেটর, বুলডেজার, কংক্রিট জ্যাকহামার, দীর্ঘ ও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্রেন, ওয়েল্ডিং মেশিন, ড্রাম ট্রাক, গ্যাস কাটারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি।

এসব ব্যবহার করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভবন ভাঙার কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী। তিনি বলেন, হাতিরঝিল প্রকল্পের মধ্যে শুধু বিজিএমইএ ভবন নয়, যত অবৈধ স্থাপনা আছে সবগুলো অপসারণ করা হবে। আমরা চাই হাতিরঝিলে পানির গতি বৃদ্ধি পাক, সুন্দর ঢাকা             গড়ে উঠুক। তিনি বলেন, আমরা হাতিরঝিল প্রকল্পের বিষফোড়া বিজিএমইএ ভবন অত্যাধুনিক ডিভাইস দিয়ে ভাঙার পরিকল্পনা করেছিলাম। ভবন ভাঙতে প্রথমবারের মতো ডিনামাইটের ব্যবহারের চিন্তা ছিল আমাদের। তবে পরিবেশের কথা আর এ ভবনের পাশে গড়ে ওঠা পাঁচতারকা হোটেলের বিষয়টি মাথায় নিয়ে ডিনামাইট ব্যবহারের চিন্তা থেকে সরে এসেছি। এখন পরিবেশের বিষয়টি মাথায় রেখে সনাতন পদ্ধতিতে ভবন ভাঙার কাজটি পরিচালিত হবে। এতে আমরা এ ভবন ভাঙার কাজ যে প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছি তাদেরকে ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দুটি টিম তাদের কাজ দেখভাল করবে, প্রতিদিন তারা সেটি দেখবে। মন্ত্রী বলেন, ভবন ভাঙার পর যেসব বর্জ্য জমা হবে প্রতিষ্ঠানটি সেগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে সাময়িক রাখবে। পরে সেগুলো শহরের বাইরে ফেলে দেওয়া হবে।

ভবন ভাঙার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান ফোরস্টার এন্টারপ্রাইজের পরিচালক নসরুল্লাহ খান রাশেদ বলেন, আমরা আগামী ২৭ তারিখ থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করব।

এসময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলম, হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক ও রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস, ফায়ার সার্ভিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।