গ্রাহকের নামে মঞ্জুরিকৃত ঋণের ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তত্কালীন ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ তিন জন হলেন দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের বসুন্ধরা শাখার সাবেক এভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামছুল হাসান ভূঁইয়া, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ম্যানেজার অপারেশন মাহবুব আহমদ ও সাবেক অফিসার ও ক্রেডিট ইনচার্জ মো. কাওসার হোসেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমানের তদন্ত প্রতিবেদন গতকাল বুধবার কমিশন যাচাই-বাছাই করে এ চার্জশিট অনুমোদন দেয়। শিগিগরই বিচারিক আদালতে এ চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।
অভিযোগের ব্যাপারে দুদক সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে আজমীর ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী মোসাম্মত্ আফরোজা বেগম দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড) এর বসুন্ধরা শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলেন। উক্ত হিসাব খোলার পর তিনি সেই একাউন্টে কোনো লেনদেন করেননি এবং কোনো চেকবই গ্রহণের জন্য আবেদনও করেননি। কিন্তু গ্রাহককে না জানিয়ে আসামিরা বিভিন্ন সময়ে সেই অ্যাকাউন্টে অর্থের লেনদেন করেন এবং গ্রাহকের ছবি, কাগজপত্র ও স্বাক্ষর জাল করে গ্রাহকের নামে ৫০ পাতাবিশিষ্ট একটি চেকবই ইস্যু করেন। পরবর্তীতে আফরোজা বেগম ব্যাংক হতে ১ কোটি টাকা ঋণের আবেদন করলে আসামিরা সে আবেদন পরিবর্তন করে আজমীর ইলেকট্রনিক্স নামে ভিন্ন একটি আবেদন হিসেবে তা সংরক্ষণ করেন। আবেদনকৃত ১ কোটি টাকা ঋণের মধ্য থেকে ৮০ লাখ টাকা মঞ্জুর করা হলে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জাল স্বাক্ষর দিয়ে এবং ‘গ্রাহক সশরীরে উপস্থিত আছে’ মর্মে প্রত্যয়ন দিয়ে ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেন। এটি দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তত্সহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
