রাজধানীর রায়েরবাজারে জেড এইচ সিকদার মেডিক্যাল কলেজসংলগ্ন এলাকায় পাইলিংয়ের কাজ চলাকালে জাতীয় গ্রিডের হাইভোল্টেজের লাইনে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ১১ হাজার ভোল্টেজের ঐ লাইন স্পর্শ করা মাত্র ঐ তিন শ্রমিক বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে পুড়ে মারা যান। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একটি প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে বুধবার বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—সাইফুল শেখ (৩৮), জরু শেখ (৩৩) ও মঞ্জুরুল হক (৩২)। এদের মধ্যে সাইফুল ও জরু আপন দুই ভাই। তাদের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। মঞ্জুরুলের বাড়ি বগুড়ার ধুনটে।
মঞ্জুরুলের ছোটো ভাই সবুজ প্রামাণিক বলেন, দুপুর ১২টার দিকে খবর পেয়ে মিরপুর থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার বড়ো ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করি। তিনি বলেন, নদীর পাশেই গত পাঁচ/সাত দিন ধরে পাইলিংয়ের কাজ করছিলেন তার ভাইসহ শ্রমিকরা। সেই সময়ই ঐ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
রাজধানীতে আরো চার জনের অপমৃত্যু
এদিকে রাজধানীতে আরো চারটি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বনানীতে নূরুল ইসলাম (৬০), গুলশানে গৃহকর্মী স্বর্ণা (১৬), ভাটারায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জুলেখা আক্তার জুলি (১৫) ও সবুজবাগে নির্মাণশ্রমিক ফিরোজ কবির (১৯) মারা যান।
মৃত নূরুল ইসলামের স্বজন আবদুস সালাম বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় বেপরোয়া একটি বাসের চাপায় নূরুল ইসলাম মারা যান। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জে। তিনি চিকিত্সার জন্য সোমবার বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে তার বাসায় এসেছিলেন।
গুলশান থানার এসআই মোহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুলশানের ৪৮ নম্বর রোডের রেজাউল করিম খানের বাসা থেকে গৃহকর্মী স্বর্ণার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বাবার নাম ফাইজুল এবং মায়ের নাম খোরশেদা। বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর থানার বত্রিশ গ্রামে।
ভাটারা থানার এসআই মো. নূর ইসলাম সিকদার জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ভাটারার বোর্ডঘাট এলাকার মজিবরের টিনশেড বাসা থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জুলির লাশ উদ্ধার করা হয়। মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল জলিল একজন অটোরিকশাচালক। মা মর্জিনা বেগম পোশাক কারখানার কর্মী। বাড়ি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ঘোরাইদ গ্রামে।
এদিকে, সবুজবাগ থানার এসআই মামুনুর রশিদ জানান, সবুজবাগের মধ্য বাসাবো এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে ফ্যানের হুকের সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় রড মিস্ত্রি ফিরোজের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বাবার নাম মো. ইনছার আলী। বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার বনারপাড়া গ্রামে।
