সাত গোলের ঘটনা

ড্রেসিং রুমে কেঁদেছিলেন সিজাররা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৫৮

সাবেক ব্রাজিল গোলকিপার জুলিও সিজার যেখানে যান সেখানেই ২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবলের  সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের হার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশেও যে এটি হবে আগেই জানা ছিল তার।

ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার সফরে আসার পরও প্রশ্ন উঠল, ম্যাচ হারের পর ড্রেসিং রুমে কি হয়েছিল। জুলিও সিজারের সেই রাতটা কেমন কেটেছিল। এমন প্রশ্নে এতগুলো গোল হজম করা সিজারের  জবাব শুনতে গতকাল বাফুফের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে পিনপতন নীরবতা। বিশ্বকাপার জুলিও সিজার বলে গেলেন ড্রেসিং রুমে গিয়ে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।

সিজার বললেন,‘আমরা ড্রেসিং রুমে কাঁদছিলাম। কল্পনাও করতে পারিনি এভাবে হেরে যাব। নেইমার নেই, থিয়েগো সিলভা ছিল না। আমাদের আক্রমণ ও রক্ষণ সবই ছিল দুর্বল। আমাদের কান্না দেখে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন সভাপতির চোখেও পানি ছিল। তিনি আমাদের সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়। সারারাত ঘুমাতে পারিনি। এখন চোখে ভেসে ওঠে সেই বিভীষিকাময় ম্যাচের কথা। আমি কখনো তৃতীয় স্থান ম্যাচ খেলিনি তারপরও তখন হল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে হয়েছিল কষ্ট বুকে নিয়ে।’

তিনবার বিশ্বকাপ খেলেছেন সিজার। তাকে পেয়ে সাবেক গোলকিপারদের একটা সেশন ছিল বাফুফে ভবনের মাঠে। দশ বারোজনের বর্তমান ও সাবেক গোলকিপারদের একটি দলকে টিপস দিয়েছেন সিজার। গৌরবময় অধ্যায় কাটিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের বড়ো মঞ্চে। ইংলিশ ফুটবলে খেলেছেন। তার চোখ ধাঁধানো ফুটবল বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকদেরও মাতিয়েছে।

গোলকিপাররাও খুব খুশি। বিপ্লব জানান সিজার বলেছেন,‘গোল খেলেও সঙ্গে সঙ্গে কষ্ট কাটিয়ে ম্যাচে মন দিতে হবে। মনে রাখতে হবে তার দিকে তাকিয়ে দর্শক, অন্যান্য খেলোয়াড়রা। ম্যাচের বাকি আছে অনেক কিছুই। থেমে যাওয়া যাবে না।’ নেহালন, বিজন, হিমেলদের দেখাচ্ছিলেন বিশেষ কিছু দিক। পনির বললেন,‘ক্রসবল আসলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে, স্টেপিংটা কেমন হবে দেখিয়েছেন। রোমাঞ্চকর মনে হলো।’

পুরুষদের পরই মেয়েদের নিয়ে সময় দিয়েছেন জুলিও সিজার। পরিচয় হয়ে বাংলায় বললেন কেমন আছ। নিজে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে দেখালেন কিভাবে খেলতে হবে। ময়মনসিংহের মিলি, কুষ্টিয়ার জবা, জাতীয় দলের স্বপ্না পেনাল্টি শট করেন সিজারকে। পাশে দাঁড়িয়ে বাফুফের কর্মকর্তা, স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা।

বাফুফে ভবনে দুপুরের খাবার খেয়ে স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন সিজার। স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার তানভীর মাজহার তান্না, তসলিম উদ্দিন, আশরাফ আলী, সুরুজ, সুবাশ, মোমিন জোয়ার্দার, মোজাম্মেলন, আব্দুল সাত্তার, বদিউজ্জামান, নওশের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  

পরে সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে সিজার বলেন,‘লাঞ্চের সময় স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। যুদ্ধের সময় তারা ফুটবল খেলে সবাইকে উত্সাহ দিয়েছে। আমি এর আগে কখনোই কোনো দেশের ক্ষেত্রে এমনটি শুনি নাই। এটা আমার জন্য ভালো একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে। দেশে ফিরে আমার পরিবারকে বলব।’

ফুটবল দুনিয়ায় কে সেরা মেসি নাকি রোনালদো ? জুলিও সিজারের জবাব,‘তুলনা করতে গেলে তারা দুই জনেই সেরা। কখনো মেসি রোনালদোকে পুশ করছে, কখনো রোনালদো মেসিকে পুশ করছে। এই দুই জনই ফুটবল দর্শকদের আনন্দ দিচ্ছেন।’