বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবলের ফাইনাল কাল

বাংলাদেশের স্বপ্ন শেষ

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৫৭

কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে যেখান থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল এবারের আসরেও তাই ঘটল। আবারও সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশ ফুটবল দলকে। এবারের বিদায় ঢাকায়। আগের বার বিপক্ষ ছিল ফিলিস্তিন। গতকাল হারলো বুরুন্ডির কাছে।

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ১৮৭ র্যাংকিংয়ের বাংলাদেশ ০-৩ গোলে হারল ১৫১ র্যাংকিংয়ের বুরুন্ডির কাছে। হ্যাটট্রিক করেছেন নিশিমিরিমান জসপিন। এই ফুটবলার গ্রুপ পর্বে মরিশাসের বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক করেছেন। টুর্নামেন্টে বুরুন্ডির ১০ গোলের মধ্যে সাতটিই জসপিনের। ঢাকায় খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছেন জসপিন।

এ জয়ে আগামীকাল বিকাল ৪টায় ফাইনালে ফিলিস্তিনের মুখোমুখি হবে বুরুন্ডি।

বাংলাদেশের স্কোর দেখে মনে হতেই পারে বাজে ফুটবল খেলেছেন জামাল ভুঁইয়ারা। বড়ো ব্যবধানে হারলেও ভঙ্গুর বাংলাদেশ দল তুলনায় অনেক ভালো খেলেছে। নেতিবাচক ফুটবল না খেলে লড়াইয়ের চেষ্টা করেছে। অনেক সুযোগ পেয়েও দুর্ভাগ্যক্রমে সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি।

তার পরও বলতে হয় বাংলাদেশ যেসব সুযোগ পেয়েছে সেগুলো গোলে পরিণত করতে না পারা ছিল চরম ব্যর্থতা। ইব্রাহিম, জামাল ভুঁইয়া, সাদ উদ্দিন, সুফিল, সোহেল রানা, রাকিব পালাক্রমে গোল ‘মিসে’র মহড়া দিয়েছেন। গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। বিপরীতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বুরুন্ডি স্রোতের বিপরীতে খেলে সুযোগ লাগিয়ে গোল করেছে।

এমনিতেই অসুস্থতা, ইনজুরি আর লালকার্ডে বাংলাদেশের একাধিক ফুটবলার ছিলেন দলের বাইরে। ভঙ্গুর একটা দল নিয়ে মাঠে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। খেলার পঞ্চম মিনিটেই মাঠ ছাড়তে হয় স্ট্রাইকার মতিন মিয়াকে। মাংশপেশিতে টান লাগায় মতিন মাঠ ছাড়েন। ভয় ছিল বাংলাদেশের আক্রমণ ভাগ পুরোপুরি ভোতা হয়ে যায় কি না। কিন্তু তা হয়নি।

ইব্রাহিম, সুফিল, সোহেল রানা, সাদ উদ্দিনরা তার পরও বুরুন্ডির ওপর আক্রমণের ঝড় বইয়ে দিয়েছিলেন। ৪০ মিনিট চাপে রেখেছিলেন জামাল ভুঁইয়ারা। ইব্রাহিমের শট বুরুন্ডির গোলকিপার আইমি ফালিস ঠেকিয়ে দিয়েছেন। সুফিল গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। স্রোতের বিপরীতে বাংলাদেশের দুর্বল রক্ষণের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ৪২তম মিনিটে প্রথম গোল করেন বুরুন্ডির জসপিন ১-০। ইনজুরি টাইমে জসপিনের হেড বুঝতেই পারেননি বাংলাদেশের গোলকিপার রানা ২-০।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচটা বাংলাদেশের দখলেই ছিল। সাদ গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। জামালের তুলে দেওয়া বলে সুফিলের হেড বুরুন্ডির গোলকিপার কর্নার করেন। জামালের সেটপিস ঠেকিয়ে দিয়েছেন গোলকিপার। তিনবার পোস্টে লেগেছে বল।

বাংলাদেশের আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত বুরুন্ডি। রাকিব মাঠে নেমেই ছোটো বক্সে গোলকিপারকে একা পেয়ে বল আকাশে মারেন। ৭৮ মিনিটে আবার পাল্টা আক্রমণে জসপিন গোল করেন ৩-০। বাংলাদেশের খেলা দেখে হাজার ১৫ দর্শক অপেক্ষায় ছিল গোল পাবে জামালরা। কিন্তু ৭৮ মিনিটে তৃতীয় গোলের পর দর্শকরা চেয়ার ছাড়তে শুরু করে।

আফ্রিকান ফুটবলে বুরুন্ডি সেকাফে কাপ ফুটবলে ৮০, ২০০৬, ২০০৭ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়। বাংলাদেশে অনেকেই বুরুন্ডিকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করেছিল। সেই বুরুন্ডি কাল বাংলাদেশকে হারিয়ে অবহেলার জবাব দিয়েছে। বুরুন্ডির স্পিকারও ঢাকায় এসে বাফুফের সভাপতিকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন তারা জিতবেন বলে। বাস্তবেও হলো তাই।

বাংলাদেশ :আশরাফুল ইসলাম রানা, রায়হান হাসান, রহমত মিয়া, বিশ্বনাথ, রিয়াদুল হাসান রাফি, সাদ উদ্দিন, জামাল ভুঁইয়া, সোহেল রানা (রাফি), মানিক হোসের মোল্লা, ইব্রাহিম, মতিন মিয়া (সুফিল)। সুডিশ কুমার পান্ডে  (নেপাল)।