দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী নেই তবে ঝুঁকি আছে ----------- আইইডিসিআর

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:১৮

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন রোগী বাংলাদেশে এখনো পাওয়া না গেলেও ঝুঁকি রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে করোনা ভাইরাস নিয়ে অবহিতকরণ সভায় তিনি বলেন, দেশে এখন ‘কমন কোল্ড’-এর সময়, আর যদি ‘কো মরবিডিটি’ থাকে, তাহলে যে কোনো ভাইরাসে, যে কোনো ব্যাকটেরিয়াতে আক্রান্ত হলে সেটা জটিলতার দিকে যেতে পারে। নতুন ভাইরাসটি নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে ঝুঁকি রয়েছে ঠিকই। ‘মার্স’ ও ‘সার্স’ পরিবারের এই নতুন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি সবকিছু জানা যায়নি বলেও তিনি জানান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন এই ভাইরাসের নাম দিয়েছে ২০১৯-এনসিওভি।

ডা. মীরজাদী বলেন, ভাইরাসটি এখনো ‘স্টেবল’ অবস্থায় আছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে ‘মৃদু’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে ভাইরাসের সক্ষমতা দ্রুত হয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে মনিটর করছে, এর থেকে মারাত্মক পরিস্থিতি যাতে না হয়। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বুধবারের জরুরি বৈঠকে ভাইরাসের কারণে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি মহামারি ঘোষণা করা হবে কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসেনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও সদ্য বিদায়ি রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, নতুন এই করোনা ভাইরাসের লক্ষণ হলো জ্বর, কফ, শ্বাসকষ্ট। এর থেকে নিউমোনিয়া, তারপর কিডনি ফেইলিউর হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, গত ২১ জানুয়ারি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৈঠক করেছি, সেখানে চীন এবং আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদেরকে একটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং নতুন এই করোনা ভাইরাসের লক্ষণ থাকলে তাদেরকে ১৪ দিনের মধ্যে আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭ ১১০০১১, ০১৯৩৭ ০০০০১১, ০১৯২৭ ৭১১৭৮৪, ০১৯২৭ ৭১১৭৮৫) যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। আর কেউ যদি আক্রান্ত হয়ে যান, তাহলে তাদের পর্যবেক্ষণের জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত রিএজেন্ট রয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানা যাবে। বিমানবন্দরসহ দেশের সব স্থলবন্দরগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিয়মিত আপডেট দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি চীনের উহান শহরের একটি সি-ফুড মার্কেট থেকে নতুন করোনা ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি জাপান, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত সেখানে ৫০০ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।