পতিত পাবন মণ্ডল (পাবন) সিনিয়র শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ,ঢাকা
প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা,
বাংলা দ্বিতীয়পত্র বিষয়ে কিছু দিক নির্দেশনা দেওয়া হলো।
বাংলা দ্বিতীয়পত্র দুটি অংশে বিভক্ত; রচনামূলক ও বহুনির্বাচনি (৭০+৩০ =১০০ নম্বর)।
প্রথমেই রচনামূলক নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক।
অনুচ্ছেদ রচনা:এখানে দুটি প্রশ্ন থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, নম্বর ১০। কোনো বিষয়ে সুচিন্তিত বুদ্ধিদীপ্ত চেতনা স্বল্প পরিসরে নান্দনিক শিল্পমণ্ডিত করে বাণীবদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে অনুচ্ছেদ রচনা বলে।
অনুচ্ছেদ লেখার নিয়ম:
১. সহজ-সরল ভাষায় নির্ভুল বানানে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হয়।
২. উদাহরণ, দৃষ্টান্ত, যুক্তি, অলংকার, উদ্ধৃতির তেমন প্রয়োজন নেই।
৩. অবশ্যই অনুচ্ছেদ একটি প্যারাতে লিখতে হবে।
পত্র-দরখাস্ত: নম্বর ১০
এসএসসি পরীক্ষায় পত্র / দরখাস্ত / পত্রিকায় প্রকাশিতব্য পত্র এ তিন ধরনের পত্রের প্রাধান্য দেওয়া হয়। এখানে আবেদন পত্রের উত্তর করাই উত্তম। পত্র-দরখাস্তে কাল্পনিক নাম থাকবে। (থাকতে পারে) প্রশ্নে উল্লিখিত তথ্য ব্যবহার করে আবেদনপত্রটি লিখতে হবে। ব্যক্তিগত পত্রে প্রবাসী কারো নিকটপত্র লেখার কথা বলা হলে সে ক্ষেত্রে খামের উপর ইংরেজিতে প্রতীকী ঠিকানা লিখবে।
সারমর্ম / সারাংশ: ১০ নম্বর
সারমর্ম/সারাংশ এর জন্যে প্রশ্নে প্রদত্ত অংশের উপমা, উদাহরণ, দৃষ্টান্ত, যুক্তি, অলংকার ইত্যাদি বাদ দিয়ে মূল বার্তা নিজের ভাষায় পরিপাটি করে লেখার প্রক্রিয়াকে সারাংশ / সারমর্ম বলে।
এ অংশে সঠিক উত্তরের জন্য-৬, রচনা শৈলীর জন্য-৩ ও নিয়মকানুনে-১ নম্বর বরাদ্দ থাকে।
লেখার নিয়ম:
১.প্রদত্ত অংশে একটি বিশেষ বার্তা থাকে। যা খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত বারবার মন দিয়ে পড়তে হবে।
২.মূলবার্তা নিজের ভাষায় তিন বা চারটি বাক্যে লেখাই ভালো।
৩.নির্ভুল বানানে আকর্ষণীয় বাক্য বিন্যাসে মূলবার্তা লিখতে হয়।
৪. কোনো উদ্ধৃতি, প্রত্যক্ষ উক্তি ব্যবহার করা যাবে না।
ভাবসমপ্রসারণ: নম্বর ১০
লেখার নিয়ম:
১. প্রদত্ত পদ্যাংশ বা গদ্যাংশটুকু ভালোভাবে পড়ে উদ্ধৃতির অন্তর্নিহিত বার্তা ২-৪টি বাক্যে আকর্ষণীয় ভাবে লিখবে।
২.বার্তাকে যুক্তি, উদাহরণ, দৃষ্টান্ত, অলংকার যুক্ত করে বিস্তৃত করতে হয়।
৩.উদ্ধৃতাংশে প্রকৃত অর্থ, প্রতীকী অর্থ থাকতে পারে তা প্রয়োগ করতে হবে।
৪. মূলভাব সমপ্রসারণের সময় প্রাসঙ্গিক ঐতিহাসিক, বৈজ্ঞানিক তথ্যের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দরকার মতো উপমা বা উদ্ধৃতির ব্যবহার করবে, তবে অন্য কোনো ভাষায় উদ্ধৃতি দিলে অবশ্যই তা বাংলায় অনুবাদ করতে হবে।
৫. ভাবসমপ্রসারণ তিনটি অনুচ্ছেদে লিখবে। এর মধ্যে সর্বশেষ অনুচ্ছেদটি হবে মন্তব্য সূচক।
৬.ভাবসমপ্রসারণ অনুচ্ছেদগুলোর শিরোনাম (পয়েন্ট)- মূলভাব, সমপ্রসারিতভাব, মন্তব্য লিখবে না।
প্রতিবেদন প্রণয়ন: নম্বর ১০, দুটি প্রতিবেদন থেকে একটির উত্তর করতে হবে। সাধারণত ১. সংবাদ প্রতিবেদন, ২. প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন পরীক্ষায়এসে থাকে। সংবাদ প্রতিবেদনে প্রথমে একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম দিয়ে এর পর নিজস্ব সংবাদ দাতা / নিজস্ব প্রতিবেদক / জেলাপ্রতিনিধি/ মফস্বল সংবাদ দাতা, মাগুরা।। এ ভাবে লিখা শুরু করবে। প্রতিবেদন লেখা শেষে একটি তথ্য বক্স দিয়ে দিবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়টি কে,কী,কখন,কোথায়,কেন,কীভাবে (Who, What, When, Why, Where, and How) এ ছয়টি বিষয় মাথায় রেখে লিখবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনে সূত্র বা স্মারক নম্বর উল্লেখপূর্বক একটি আবেদনপত্র লিখতে হবে। এর পর শিরোনামসহ প্রতিবেদন লেখা শেষ করে তথ্যবক্স দিবে।
প্রবন্ধ রচনা: ২০ নম্বর
প্রবন্ধ শব্দটির ব্যুত্পত্তিগত অর্থ ‘প্রকৃষ্ট রূপেবন্ধন’এটি একটি বাস্তবনিষ্ট স্বকীয় সৃজনশীল সৃষ্টি। বিষয়বস্তু, তথ্য ও তত্ত্বের যুক্তিপূর্ণ প্রকাশই এর মূলকথা। আত্ম-সচেতনতা, বুদ্ধি ও সুদৃঢ় যুক্তির সমন্বয়ে লেখকের বাণী একটি শিল্পসম্মত রূপ ধারণ করলে তাকে প্রবন্ধ বলে। প্রবন্ধে নাতিদীর্ঘ গভীর জ্ঞানের সমন্বয় ঘটে। প্রবন্ধের কাঠামোতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে: ১. ভূমিকা, ২. মূল অংশ, ৩. উপসংহার। যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখলে ভালো প্রবন্ধ লেখা যায় তা হলো-:
১. প্রবন্ধের ভূমিকা হবে প্রাসঙ্গিক, আকর্ষণীয় ও হূদয়গ্রাহী ও সংক্ষিপ্ত অথচ প্রাঞ্জল। ২. মূল অংশ একাধিক উপ-শিরোনাম ব্যবহার করা যেতেপারে। ৩. একটি যুতসই প্রাসঙ্গিক স্বকীয়তা মণ্ডিত উপসংহার ভালো রচনার ক্ষেত্রে আবশ্যিক।
অনেকে সম্পূর্ণ উত্তর করতে পারে না, কারণসময়সচেতননয়, তাই সময় ভাগ করে বাসায় অনুশীলন করবে যাতে সম্পূর্ণ উত্তর করতে পারো। মনে রাখবে বাংলাতে এক নম্বর উত্তর করতে তোমার সময় গড়ে দুই মিনিট। অর্থাত্ তুমি ২০ নম্বরের রচনা লিখতে সময় পাবে ৪০ মিনিট।
ব্যাকরণ অংশে থেকে ৩০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থাকবে। এখানে ভালো করতে নবম-দশম শ্রেণির জন্য বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত যে বইটি রয়েছে তা নিষ্ঠার সাথে পড়বে । বোর্ড বইটি মন দিয়ে পড়লে ভালো ফল করা খুব সহজ কারণ এ বইয়ের বাইরে প্রশ্ন হয় না। ব্যাকরণ মুখস্থ না করে ধীরেধীরে বুঝে পড়বে তাহলে ব্যাকরণের বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারবে। বিগত ১০ বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করলে সুফল পাবে। সুখের কথা হলো প্রশ্নগুলো কঠিন হয় না, গতানুগতিক সহজ ধরনের প্রশ্ন হয়ে থাকে।
