স্পোর্টস ডেস্ক
রবার্তো ফিরমিনোর অন্তিম সময়ের গোলে উলভারহ্যামপটনকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর দিনে লিভারপুলের জন্যে দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে ফরোয়ার্ড সাদিও মানের গোল। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের অপরিহার্য হয়ে ওঠা এই ফরোয়ার্ডকে হারানো চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কোচ য়ুর্গেন ক্লপের।
স্বাগতিক উলভস গত বৃহস্পতিবার প্রতিপক্ষ অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসনের ৮ মিনিটের গোলটির জবাব দেয় ৫১ মিনিটে। সেটিও আসে আরেক অধিনায়ক রাউল হিমেনেজের পা থেকেই। এরপর ৮৪ মিনিটে ফিরমিনোর লক্ষ্যভেদে ম্যাচে ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
এই জয়ের ফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটির চেয়ে ১৬ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও কোচ ক্লপের দুর্ভাবনা ৩৩ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়া মানেকে নিয়েই। জার্মান এই কোচ বলেন, ‘সাদিও তার হ্যামস্ট্রিংয়ে কিছু অনুভব করেছিল, আমরা এখনো জানি না। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
উলভসের বিপক্ষে ম্যাচটির পর আগামী নয় দিনে তিনটি ম্যাচ খেলবে লিভারপুল। এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে শ্রুসবেরির বিপক্ষে রবিবার খেলার পর বুধবার ওয়েস্ট হ্যামের মুখোমুখি হবে দলটি। এর তিন দিন পরই অল রেডরা নিজেদের মাঠে সাউদাম্পটনকে আতিথ্য দেবে। মানেকে ছাড়া এমন সূচি কঠিনই হবে, মানছেন ক্লপ। তিনি বলেন, ‘এটা কঠিন এবং সম্ভবত মানেকে ছাড়াই খেলতে হবে আমাদের।’
১৬ পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে থাকায় চাপটা একরকম সরেই গেছে লিভারপুলের ওপর থেকে। এমনভাবেই সরে গেছে যার ফলে ক্লপও এখন আর পয়েন্টের হিসাবটা মাথায় রাখছেন না। জার্মান এই কোচ বলেন, ‘আমি এ নিয়ে ভাবি না। ঠিক কত পয়েন্টে এগিয়ে আছি তা জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে, এটাই সত্যি। এই সপ্তাহে সত্যিই আমি ব্যাপারটা ভুলে গেছি। যেটা আমি জানি সেটা হচ্ছে, রবিবারে শ্রুসবেরির বিপক্ষে খেলব এরপর বুধবারে ওয়েস্ট হ্যাম। তারপর শনিবারে একটা ম্যাচ আছে।’
সাদিও মানের অনুপস্থিতি কিছুটা চাপ নিয়ে আসছে দলের জন্য, জানালেন ক্লপ। তিনি বলেন, ‘সাত দিনে তিনটা ম্যাচ অনেক বেশি। আমরা মানেকে হারিয়েছি এবং এটা একমাত্র চাপ, যেটা নিয়ে ভাবছি আমি। এ ছাড়া আর কোনো চাপ নেই আমাদের ওপর।’
অধিনায়ক হেন্ডারসনের প্রশংসাও ঝরল ক্লপের কণ্ঠে, ‘আমি জানিনা ঠিক কখন থেকে হেন্ডো (হেন্ডারসন) আক্রমণাত্মক সেটপিসগুলোয় অংশ নেয়া শুরু করল। সে সাধারণত নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বে থাকে। এটা আরেকটা দিক দেখায় যাতে বোঝা যাচ্ছে, সে এই মুহূর্তে দারুণ ছন্দেই আছে।’
