চলার পথে প্রতারণা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০৮

বিপদে ফেলে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলনকারী চক্র!

বিশেষ প্রতিনিধি

পুরোনো ঢাকার চকবাজারে অভিনব কায়দায় বিপদে ফেলে এক আইনজীবীর কাছ থেকে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলনকারী যুবক এক মাস পর গ্রেফতার হয়েছে। তার নাম মো. রায়হান। ঘটনার কথা স্বীকার করে বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ চক্রের অপর সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক কৃষ্ণপদ মজুমদার। তিনি জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ভোলা আদালতের একজন আইনজীবী চকবাজার থানার জেলখানার নতুন নির্মাণাধীন কোয়ার্টারের টেম্পো স্ট্যান্ডের পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় রায়হান উলটো দিক থেকে এসে তাকে ধাক্কা মারে। একই সময় একটি মোবাইল ফোন সেট মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর সেটটি মাটি থেকে তুলেই বলে ওঠে, আপনি দ্রুত পথ চলতে থাকায় আমার গায়ে ধাক্কা মেরে মোবাইল ফেলে দিয়েছেন। আমার মোবাইলের গ্লাস ফেটে গেছে। আমাকে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। পরক্ষণেই আরো দুজন যুবক এসে তার সঙ্গে সঙ্গ দেয়। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মানিব্যাগে থাকা ২ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে নেয়। এরপর মানিব্যাগের মধ্যে থাকা ভিসা কার্ড নিয়ে পুরোনো জেলখানার প্রধান ফটকের ঢালে অবস্থিত ইসলামি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে যায়। সেখানে বাইরে একজনকে রেখে তাকেসহ দুজন বুথের ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর তার কাছ থেকে পিনকোড নিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে ১৯ হাজার টাকা তুলে ভিসা কার্ড ও মানিব্যাগ দিয়ে দেয়। এই ঘটনায় ঐ রাতেই ঐ আইনজীবী চকবাজার থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে চকবাজার থানা পুলিশ ঐ এটিএম বুথের সিসি ক্যামেরা থেকে এক যুবকের ছবি সংগ্রহ করে। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে সোর্সের মাধ্যমে রায়হানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করে।

উপ-পুলিশ পরিদর্শক কৃষ্ণপদ মজুমদার বলেন, বুধবার সন্ধ্যার দিকে রায়হান তার স্ত্রীকে নিয়ে নীলক্ষেত এলাকায় এক খাবারের দোকানে আসে। পরে সেখানেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায় রায়হান ঐ আইনজীবীকে বিপদে ফেলে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করে। বৃহস্পতিবার রায়হান ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, রায়হানের বাসা পুরোনো ঢাকার জিন্দাবাহার লেনে। সে স্বীকার করেছে, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। এর আগেও বহু মানুষকে বিপদে ফেলে টাকা আদায় করেছে। রায়হানের অপর সহযোগীদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা পথচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পথ চলতে সাবধান হোন, পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয় জনসাধারণ বা থানা পুলিশের সহযোগিতা নিন। প্রয়োজনে ৯৯৯ কল করুন।