আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের স্তূপ ইসিতে

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৭

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশন, দুই সিটির রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগের স্তূপ জমেছে। তবে বেশিরভাগ অভিযোগই আমলে নিচ্ছে না কমিশন। বরং ভোটের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী রিটার্নিং অফিসাররা নিজেদের ভারমুক্ত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। তবে একাধিক নির্বাচন কমিশনার বারবার অভিযোগ করে বলেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে এখনো পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৭০০ প্রার্থীর মধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক প্রার্থী নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে হুমকি-ধামকির অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে  ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগ এসেছে ৬২টি, উত্তর সিটিতে ৩২টি এবং ইসির কার্যালয়ে আরো অর্ধশতাধিক অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। উত্তর সিটির ৩২টি অভিযোগের মধ্যে ২৪টি কাউন্সিলর এবং ৮টি মেয়র প্রার্থীদের। বেশিরভাগ প্রার্থী অভিযোগে সরকার দলীয় কাউন্সিলর এবং মেয়র প্রার্থীর বিধিভঙ্গের কথা বলেছেন।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল গত ২০ জানুয়ারি ইসিতে একটি চিঠি দিলেও তা আমলে নেয়নি কমিশন। চিঠিতে এই প্রার্থী লিখেছেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম উত্তর সিটি মেয়র পদে দায়িত্বরত ছিলেন। কিন্তু তার অধীনস্ত উত্তর সিটির কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হচ্ছে এবং তারা প্রশিক্ষণে নিয়োজিত রয়েছে। যা বিধানের পরিপন্থি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটির বিএনপি মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন গত ১৮ জানুয়ারি সিইসির কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস দক্ষিণ সিটির প্রতিটি থানায় একাধিক নৌকা মার্কার নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।’ এ ব্যাপারেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি ইসি।

আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও কঠোরভাবে আচরণবিধি মানতে প্রার্থীদের বাধ্য করার দাবি জানিয়ে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি)। চিঠিতে বলা হয়-সকল প্রার্থীদের সমান সুযোগ প্রদান গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। এ বিষয়ে ইসির নির্বিকার ভূমিকা আমাদেরকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে।

এদিকে দুই সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কতটি অভিযোগ পাওয়া গেছে তা জানতে দুই রিটার্নিং অফিসারকে গত ১৬ জানুয়ারি চিঠি দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। কিন্তু তিনি ২০ জানুয়ারির মধ্যে চিঠির জবাব চাইলেও গতকাল পর্যন্ত পাননি।

ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম করলে জেল :ইসি রফিকুল 

ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে কেউ অনিয়মের চেষ্টা করলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তকে সোজা জেলখানায় ঢুকানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময়  কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাসেম, নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. নুরুজ্জামান তালুকদার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহতাব উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।