রাজশাহীতে এলজিইডির ৪৫ কোটি টাকার টেন্ডারে জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৫০

রাজশাহীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ৪৫ কোটি টাকার পৃথক ই-টেন্ডারে গুরুতর জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে গোদাগাড়ী উপজেলার পাঁচটি সড়ক সংস্কার ও নির্মাণে এই টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এ সংক্রান্ত নথিপত্র ও প্রমাণাদি সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। 

এদিকে বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ না দিয়ে সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে টেন্ডার বাতিলের চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানিউল হক টেন্ডার বাতিলের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সৃষ্ট জটিলতার অবসান হলেই যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

নথিতে দেখা যায়, গত বছর ২৭ জুন এলজিইডি, রাজশাহী আইডি নং-৩৩১২৫৪ এর মাধ্যমে গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী-কাকনহাট সড়কের ১৩ হাজার ৮৫০ মিটার, পাকড়ি-জটগোপাল সড়কের ৩ হাজার ৩৭০ মিটার, গোদাগাড়ী-নবীনগর সড়কের ৫ হাজার ৯০০ মিটার এবং আইডি নং-৩৩৬১৩৬ এর মাধ্যমে একই উপজেলার বালিয়াঘাটা বাজার-মুণ্ডুমালা সড়কের ২০ হাজার ৫০০ মিটার ও বাসুদেবপুর-দড়িয়াপুর সড়কের ৬ হাজার ৭৬০ মিটার সংস্কার ও নির্মাণের             পৃথক ই-টেন্ডার আহ্বান করে। ২৯ জুলাই ওপেনিং রিপোর্ট মোতাবেক উভয় টেন্ডারে তিনটি করে প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক টেন্ডার মূল্যায়নে ‘জেভি’র অভিজ্ঞতা সনদে স্ব-স্ব শেয়ার উল্লেখসহ আলাদাভাবে নির্ণয়ের জন্য চিঠি দেন।

নথিতে আরো দেখা যায়, এলজিইডি, রাজশাহীর সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান, সওজ রাজশাহী জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চ. দা.) মো. হাবিবুর রহমান ও সওজ নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হামিদুল হক ‘ডন এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড মো. ওয়াশীমুল হক জেভি’ এবং ‘ডন এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড মো. আবুল হোসেন জেভি’র দাখিলকৃত শর্তবহির্ভূত জাল সনদে টার্নওভার বৃদ্ধি এবং মালিকের স্বাক্ষরবিহীন জেভি চুক্তিকে ‘রেসপন্সিভ’ ঘোষণা করেন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। এ সিদ্ধান্তের প্রতিকার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ‘মেসার্স শামিম এন্টারপ্রাইজ’ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজশাহী, প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সরকার সচিবকে চিঠি দেন। প্রতিকার না পেয়ে আবেদনকারী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউ) অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের শুনানি, সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা ও প্রকৌশলীদের জিজ্ঞাসাবাদ উদ্ধৃত করে সিপিটিইউ রিভিউ প্যানেল-২ এর তিন সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ উভয় ই-টেন্ডারে কর্তৃপক্ষের জালিয়াতি ও দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে বলে গত ২৭ নভেম্বর সর্বসম্মত রায় দিয়েছে। রায়ে রিভিউ প্যানেল ‘ডন এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড মো. ওয়াশীমুল হক জেভি’কে ‘ননরেসপনসিভ’ও ঘোষণা করেছে।