আমাদের সরানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে : তাবিথ বিজয় বানচালের চক্রান্ত সফল হবে না : ইশরাক

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ০১:০২

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের ইশরাক হোসেন গতকাল দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে জনসংযোগ করেন। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় লুত্ফুন টাওয়ারের সামনে পথসভায় তাবিথ আউয়াল বলেন, ভোট থেকে আমাদের সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এজন্য তারা হামলাও করছে। কিন্তু ভোটের মাঠ থেকে আমরা পিছু হটব না। তিনি বলেন, ঢাকা সুন্দর করে সাজাতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। হেঁটে হেঁটে মা-বোনের কাছে দোয়া চেয়েছি। ১ ফেব্রুয়ারি আমরা সবাই ভোটকেন্দ্র যাব, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেব। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে, সুন্দর ও আধুনিক ঢাকা গড়তে—ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।

এ সময় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, এই নির্বাচন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। খালেদা জিয়ার মুক্তির নির্বাচন। সরকার ধানের শীষের বিজয় ঠেকাতে পারবে না। তারা ভয় পেয়ে গেছে। পুলিশ ভাইরা জনগণের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করবেন না। আপনারা জনগণের সেবক। তাই নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করুন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। ভোট চোরদের প্রতিহত করতে হবে। কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে।

পথসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

বিএনপির বিজয়কে বানচাল করার ষড়যন্ত্র সফল হবে না : ইশরাক

গতকাল শুক্রবার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদাবাদ জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসায় জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, আগামী ২৭ জানুয়ারি আমার নির্বাচনি ইশতেহারের দিন নির্ধারণ করেছি। আমার প্রতিপক্ষ বিন্দুমাত্র ধারণা রাখেন না যে, আমি প্রতিদিনই ঢাকাবাসীর জন্য নানা পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছি। তারা হয়তো এগুলো শুনছেন না। কারণ, তারা ব্যর্থ। গত ১৩ বছর ধরে তাদের দল ক্ষমতায়, গত নয় বছর ধরে নগরের দায়িত্বে তারা আছেন। কিন্তু তারা নগরের কোনো পরিবর্তন করতে পারেননি। আর কোনো ধরনের পরিবর্তন করতে পারবেন বলেও মনে হয় না। তারা কোনো কিছুর জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। কারণ, তারা জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেননি। সুতরাং তারা এই নগরের জন্য, জনগণের জন্য কিছু, করতে পারবেন বলে আমরা মনে করি না। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সাদেক হোসেন খোকা দেশে মৃত্যুবরণ করতে পারেননি অভিযোগ করে ইশরাক বলেন, চারদিকে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়েছে। দুঃশাসনের বিপক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এই দুঃশাসনের বিপক্ষে আপনারা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষে ভোট দেবেন। এই জনস্রোত দেখে নির্বাচন এবং বিএনপির বিজয়কে বানচাল করার যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সেটা কখনোই সফল হবে না।

নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনে কোনো নোটিশ পেয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, আমি এ ধরনের কোনো নোটিশ পাইনি। আমার আইনজীবী যারা কাজ করছেন; তাদের সঙ্গে আমার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে। সেখান থেকে জানতে পারছি, এখন পর্যন্ত কোনো নোটিশ আসেনি। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর উন্নয়নে আপনি কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, আমি আমার বাবার রাজনৈতিক আদর্শটাকে মনে-প্রাণে ধারণ করি। আমি বলতে চাই, আমরা অসাম্প্রদায়িক দেশে বসবাস করি। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করি। দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকায় আমরা হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে বসবাস করে আসছি। এই জায়গায় আমরা কোনো সাম্প্র্রদায়িক শক্তিকে স্থান দেইনি। আগামী দিনেও দেব না। পরে ফরিদাবাদে দয়াল বাবা মোতালেব শাহ (র.)-এর মাজার জিয়ারত করে ১৫তম দিনের প্রচারণা শুরু করেন ইশরাক। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে ৪৫ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ওয়ারী থানাধীন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণা ও গণসংযোগ করে গোপীবাগ বাসভবনে এসে দিনের প্রচারণা শেষ করেন।

প্রচারণায় অংশ নিতে সকাল থেকেই দলীয় কর্মী সমর্থকরা বাংলাবাজার ও ফরিদাবাদ এলাকায় জড়ো হন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।