পেয়ারা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি ফল। খুবই সহজলভ্য। টাটকা হলদে সবুজ ডাঁশা ডাঁশা চেহারার পেয়ারা সহজেই নজর কেড়ে নেয়। একটি পেয়ারা যেন পুষ্টির ভাণ্ডার। পুষ্টি ক্ষমতায় আপেল বা কমলার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। টাটকা পুষ্ট পেয়ারা খুবই মুখরোচক ও তৃপ্তিদায়ক বটে। এজন্য ফলের মধ্যে পেয়ারার জনপ্রিয়তা বেশি। নগরজীবনের মানুষের কাছেও এর কদর অনেক। পেয়ারাকে বলা হয়ে থাকে গরিবের আপেল। মাটিফ্লোরি বিভাগের মাটেসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। বৈজ্ঞানিক নাম সিডিয়াম গুয়াজাভা।
পেয়ারা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার ফল। আমেরিকা মহাদেশের উষ্ণ অঞ্চল পেয়ারার আদি স্থান। কিন্তু এর বিস্তার পৃথিবীজুড়ে। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, কিউবা, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাভা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, পেরু প্রভৃতি দেশে পেয়ারা চাষ হয়। বাংলাদেশে প্রায় সব জায়গাতেই পেয়ারাগাছ দেখা যায়। বিজ্ঞানের উন্নয়নের বদৌলতে আজকাল আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই সর্বত্র পেয়ারা উত্পাদিত হয়। পৃথিবীতে অনেক জাতের পেয়ারা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে স্বরূপকাঠি, মুকুন্দপুরী, কাঞ্চননগর, কাজী নামক স্থানীয় জাত প্রধান। অন্যদিকে এলাকার নামানুসারেও পেয়ারার নাম হয়। যেমন বারুইপুরের পেয়ারা, এলাহাবাদ, বেনারসী, চিত্তিদার, হরিজা, কেরালা ইত্যাদি। বাংলাদেশে সব পেয়ারার চেয়ে কাজী পেয়ারা আকারে অনেক বড়ো।
শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে পেয়ারাতে। পেয়ারার মতো ভিটামিন সি অন্য কোনো ফলে পাওয়া যায় না। এছাড়া ভিটামিন বি, আয়রন, এসেটিক অ্যাসিড ও রিবোফ্লাবিন প্রোটিনসহ অন্যান্য উপাদান রয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারাতে রয়েছে ৫২ গ্রাম আঁশ, ১৪.৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৯ গ্রাম প্রোটিন, ১১.২ গ্রাম শর্করা, চর্বি ০.৩ গ্রাম, জলীয় অংশ ৮১.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ১০০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি-১ ০.২১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-২ ০.০৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ২.১০ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৫১ কিলোক্যালরি, খনিজ পদার্থ ০.৭ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১.৪ মিলিগ্রাম।
