আগুন! আগুন! আচম্বিতে রব যখন এই ওঠে—
কোথায় আগুন? খুঁজতে সবাই দিগিবদিকে ছোটে।
লাগলে আগুন কারখানা-হাট-বাজার, বসত-ঘরে;
সকল মালামালের সাথে মানুষ পুড়ে মরে!
পোড়ে ভবন-অট্টালিকা—গরিবদুখির বস্তি,
নিষ্ঠুরতায় নেয় কেড়ে সে হাজার মনের স্বস্তি!
আগুনসম সব-বিনাশী সংহারক আর নাই—
যা-কিছু থাক—এক লহমায় সব পুড়ে হয় ছাই!
আগুন লাগার মুখ্য কারণ এবং যা মূলকথা—
না থাকাটা যথার্থই অগ্নি-সতর্কতা।
তাই এড়িয়ে অগ্নি হেপা, আগুনের ক্ষয়ক্ষতি;
বাঁচতে হলে সবার কাছে দরকারি যা অতি—
রাখতে হবে নিরাপদ আর নিরাপত্তায় মুড়ে;
দাহ্য পদার্থগুলো সব আগুন থেকে দূরে।
সবার আগে যে কথাটা রাখতে হবে মনে;
পুড়লে পোড়ার ঘা ঘোচে না অগ্নি নির্বাপণে।
খুব জরুরি সবার মাঝে জাগ্রত এই বোধের—
প্রতিকারই বিকল্প নয় আদৌ প্রতিরোধের!
জ্বালানো আর পোড়ানোই হলেও তার ধর্ম;
তার মাঝেও করে আগুন অনেক মহত্ কর্ম!
নয় শুধুই কাজ আগুনের ধ্বংস করা—পোড়া,
শক্ত-কঠিন ইস্পাতও সে গলায়—লাগায় জোড়া।
তাই হবে না করলে শুধু ক্ষতির হিসাবনিকাশ,
এই আগুনই ঘটিয়েছে সভ্যতার এ বিকাশ!
আগুন ছাড়া হয় না কোনো তৈরি ফিনিশড পণ্য;
কারো মুখে যায় না তোলা—দু-এক বেলার অন্ন!
আগুনকে যে পারছে নিতে অধিক যত বশে;
মুখর দেখি বিশ্বজগত্ তার খ্যাতিতে—যশে!
আগুন দিয়ে মানবজাতির কাজ যেমন হয় মেলা—
তেমনি ভীষণ বিপজ্জনক আগুন নিয়ে খেলা!
আগুন আছে হরেক রকম আন্তঃ এবং বাহ্য;
স্বার্থ এবং লোভের আগুন সবচে বেশি দাহ্য।
যার তুলনায় সব আগুনের ক্ষমতা খুব হ্রস্ব;
দেয় সে করে সকল সুখের স্বপ্ন পুড়ে ভস্ম!
