রসের স্বাদ জানে না শিশু-কিশোররা!
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
গা হিম করা শীত, চারদিকে কুয়াশা। শীতের সকালে খেজুর রসের মিষ্টি ঘ্রাণ। রসের হাঁড়ির টুংটাং শব্দ। বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতিতে এ দৃশ্য যেন এখন কল্পনার খোরাক! বর্তমান শিশু-কিশোরদের একটা বড়ো অংশই জানে না খেজুরের রসের স্বাদ। সৈয়দপুরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, একসময়ে সড়কের পাশ দিয়ে থাকা খেজুরগাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। গ্রামীণ সড়কের সংস্কার কাজের কবলে পড়েও অনেক স্থানের খেজুরগাছ উজার হয়ে গেছে। এছাড়াও একটা সময়ে ইটের ভাটায় অবাধে গাছ পোড়ানোর প্রবণতা ছিল। সড়কে গড়ে তোলা বাগানের মালিক আনিছুল হক জানান, সড়কের দুই ধারে তার খেজুরগাছ রয়েছে ১২০টি। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে এসব গাছ লিজ দেওয়া হয় গাছিদের কাছে। তবে বিভিন্ন স্থানে খেজুরগাছ কমে গেছে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের বাগবাড়া থেকে আসা গাছি আবু বক্কর সিদ্দিক (৩২) জানান, আগের মতো খেজুরগাছ নেই এলাকায়। প্রতি বছর শীত মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় খেজুরগাছ লিজ নেন। সেখানে ডেরা ফেলে গাছ ছিলে রস বের করার উপযোগী করে তোলেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, খেজুর রসে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে এমনটা ভেবে কেউ এখন আর কাঁচা রস শখ করেও খায় না। উপজেলা কাশিরাম বেলপুকুর এলাকার চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের এলাকায় প্রচুর খেজুরগাছ ছিল। এখন কমে গেছে। কারণ, জ্বালানি সংকটে গাছ কাটা হচ্ছে। কিন্তু নতুন করে খেজুরগাছ লাগানো হচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘উপজেলার বতুলাগাড়ী, কাশিরাম, বেলপুকুর, বাঙালিপুর ও খাতা মধুপুরে প্রচুর খেজুরগাছ ছিল। কিন্তু পরিচর্যা ও কৃষকদের অজ্ঞতার কারণে খেজুরগাছ কমে যাচ্ছে। তবে কৃষকরা উত্সাহী হলে কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
