মার্কেট কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
গচ্ছিত সম্পদের সর্বশেষ সম্বল দিয়ে দোকান ক্রয় করেছিলেন ১৫০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আশায় বুক বেঁধেছিলেন ব্যবসা করে একদিন তারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন। কিন্তু মার্কেট কর্তৃপক্ষের চরম দুর্নীতি ও গাফিলতির কারণে পথে বসতে চলেছেন তারা। এখন তারা উলটা জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন।
রাজধানীর টিকাটুলি হাটখোলা রোডের চৌধুরী মল দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহসভাপতি মিজানুর রহমান তারা ও সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে তারা ১৫০ জন চৌধুরী মলে বিভিন্ন মূল্যে দোকান ক্রয় করেন। শপিংমলের মালিক কামরুল চৌধুরী, জিয়াউল হক চৌধুরী ও সাগর চৌধুরী গংদের দোকান মূল্যবাবদ ঐ সময় নগদ ও চেকের মাধ্যমে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করা হলেও গত ১৩ বছরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যথাযথভাবে দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ চাপে পড়ে ভবনের তৃতীয় তলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন ব্যবসায়ীকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও বাকি ব্যবসায়ীরা এখনো তাদের দোকান বুঝে পাননি। যারা দোকান পেয়েছেন তাদের দোকানে বসতে দেওয়া হলেও এখনো রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হয়নি। তাছাড়া কনস্ট্রাকশনের সময় যে বিদ্যুত্ সংযোগ ছিল ঐ সংযোগেই তাদের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। কমার্শিয়াল টাকা নেওয়া হলেও সে টাকাও আত্মসাত্ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মালিক পক্ষ ৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বিদ্যুত্ বিল বকেয়া রাখেন। পরবর্তীতে দোকান মালিকরা চাঁদা তুলে সেই টাকা পরিশোধ করেন।
এ দিকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত কিছুসংখ্যক দোকানে ব্যবসায়ীরা বসতে পারলেও চতুর্থ থেকে ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত রয়েছে ভূতুড়ে পরিবেশ। সেখানে ইটের তৈরি অবকাঠামো ছাড়া আর কিছুই নেই। ঐ ফ্লোরগুলোতে বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকায় ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে সব সময়। যার কারণে ৮০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখন পর্যন্ত ব্যবসা করার মতো একটু বসার জায়গাও পাচ্ছেন না। তারা দিনের পর দিন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মার্কেটে দোকান পাওয়ার আসায় জায়গা-সম্পত্তি বিক্রি করে এখানে মালিক পক্ষকে টাকা দেই। আর মার্কেটের এই বেহাল অবস্থা রেখেই মালিক পক্ষ গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের কাছে গিয়ে দোকান বুঝিয়ে দিতে বললেও বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন।
