ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রয়াত কূটনৈতিক সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার পদ্মশ্রী পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্বববিদ এনামুল হক। গতকাল শনিবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্¿ণালয় তিনটি বিভাগে পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেছে। আজ ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্¿ দিবসের আগের দিন এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রজাতন্¿ দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণও দেন। স্বরাষ্ট্রমন্¿ণালয় জানিয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও মার্চ-এপ্রিলে রাষ্ট্রপতি ভবনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পদক তুলে দেওয়া হবে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে ইরান, ফ্রান্স ও ভুটানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন মোয়াজ্জেম আলী। ওয়াশিংটন, ওয়ারশ, জেদ্দার পাশাপাশি নয়াদিল্লি মিশনেও তিনি কাজ করেছেন। পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ সালে অবসরে যান পেশাদার এই কূটনীতিক। পরে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবার তাকে কূটনৈতিক দায়িত্বে ফিরিয়ে আনে হাইকমিশনার করে দিল্লি পাঠায়। দায়িত্ব ছেড়ে দেশে ফেরার কয়েক দিনের মাথায় গত ৩০ ডিসেম্বর মারা যান তিনি। তার সময়ে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নত হয়। লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাতিজা সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর জন্ম ১৯৪৪ সালে সিলেটে।
মোয়াজ্জেম আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় মাস্টার্স করেন। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে কূটনীতিক হিসেবে তার যাত্রা শুরু। ১৯৭১ সালে ওয়াশিংটনে দায়িত্ব পালন অবস্থায় বিদ্রোহ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিস্মৃতপ্রায় ঢাকা জাদুঘরকে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে রূপান্তর করেন পদ্মশ্রী পদক পাওয়া জাদুঘর আন্দোলনের পথিকৃত্ এনামুল হক। তিনি আহসান মঞ্জিলকে জাদুঘরে পরিণত করারও মূল উদ্যোক্তা ছিলেন। এছাড়া গীতনাট্য রচনায়ও অগ্রণী ভূমিকা আছে এনামুল হকের।
