বাংলাদেশের প্যাডম্যান

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৪০

ফকরুদ্দিন রিজভী একজন আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি। দেশের বাইরে বসে তিনি উপলব্ধি করেছেন, বাংলাদেশের স্কুল-কলেজগামী কিশোরী-তরুণীরা স্যানিটারি ন্যাপকিনের মতো একটা স্বাভাবিক বিষয় নিয়ে অস্বাভাবিক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় প্রতিনিয়ত। আর এই ব্যাপারটি তাদের জন্য শারীরিক এবং মানসিক দুই দিকেই বেশ ঝুঁকির কারণ।

এই উপলব্ধি থেকে ফকরুদ্দিন রিজভী দেশে এসেছেন। দু-চারজন কাছের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে স্কুল কলেজগুলোতে যাচ্ছেন। তারপর সেসব প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিয়ে মেয়েদের কমনরুমে বা ওয়াশরুমের পাশের দেওয়ালে ঝুলিয়ে দিয়ে আসছেন ভেন্ডিং মেশিনের মতো দেখতে একটি করে বাক্স। যার নাম দেওয়া হয়েছে 'মুক্তি বক্স'।

বক্সভর্তি করে রাখা আছে খুব ভালো মানের স্যানিটারি ন্যাপকিন। যাতে করে আমাদের মেয়ে শিক্ষার্থীরা কোনো প্রকারের সংকোচ ছাড়া বিনামূল্যের এই ন্যাপকিন প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারে। নিজেকে স্বাস্থ্যঝুঁকির হাত থেকে বাঁচাতে পারে। স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চর্চাটা এর মাধ্যমে শুরু হোক এই উদ্দেশ্যে ফখরুদ্দিন রিজভী এই 'মুক্তি বক্স' স্কুলগুলোতে স্থাপন করছেন।


স্কুলের ছাত্রীদের হাতে  স্যানিটারি ন্যাপকিন তুলে দেওয়া হচ্ছে। ছবি: ইত্তেফাক

নিজের এই কার্যক্রমটি সম্পর্কে ফখরুদ্দিন রিজভী বলেন, 'আমি কন্যা সন্তানের পিতা বলেই হয়তো ধারণাটা আমার মাথায় এসেছে। আমার মেয়ে নাইরা আমেরিকার মতো উন্নত একটি দেশে জন্মেছে। ধীরে ধীরে বড়ো হচ্ছে। সে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা হয়তো ওখানে পেয়ে যাবে। কিন্তু আমার দেশের মেয়েদের পরিস্থিতি ভিন্ন। তারা খুব স্বাভাবিক ব্যাপারগুলোকেও কোনো এক অদ্ভুত কারণে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। আমার মনে হলো, সমাজের এই কুৎসিত বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে আসা উচিৎ। আমি তাই পরিকল্পনা করেছি সারা দেশের স্কুল কলেজ মাদ্রাসাগুলোতে বিনামূল্যে এই স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করবো। মেয়েদের কমনরুমের দেওয়ালে একটা করে 'মুক্তি বক্স' বসিয়ে দিলে তারা যখনই প্রয়োজন হবে ব্যবহার করতে পারবে।'

তিনি জানান, আপাতত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের স্কুল কলেজগুলোতে নিজে গিয়ে এই মুক্তি বক্স বসিয়ে দিয়ে এসেছেন। তিনি চলে গেলেও এই কার্যক্রম চলতে থাকবে।

ফখরুদ্দিন রিজভীর লক্ষ্য আগামী এক মাসের মধ্যে একশটি স্কুলে এবং ছয় মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি স্কুলে 'মুক্তি বক্স' স্থাপন করবেন। এই খরচ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দিয়ে যাবেন যতদিন সম্ভব। 'মুক্তি বক্স' এর ন্যাপকিন সরবরাহের জন্য প্রয়োজনে তিনি একটি কারখানা খুলবেন বলে জানান। যেখানে স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন করে হলেও 'মুক্তি বক্স' চালু রাখবেন।

ছবি: ইত্তেফাক

ইত্তেফাক/জেডএইচ