নেটে ব্যাটিং করে ফিরেও ঠায় দাঁড়িয়ে সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান। ট্রেনার ইফতেখারুল ইসলাম কিছুক্ষণ টেনিস বল ছুড়লেন তাদেরকে। মূলত বল ছাড়ার চেষ্টাই করেছেন সৌম্যরা। শরীর তাক করে আসা টেনিস বলে পুলও খেলেছেন তারা। নাজমুল হোসেন শান্ত-রকিবুলরাও একই অনুশীলন করেন পরে। ব্যাটসম্যানদের বল ছাড়ার এই অনুশীলনে ইঙ্গিতটা স্পষ্ট। লাল বলের ক্রিকেট মিশন সামনে।
আগামীকাল থেকে শুরু হবে লংগার ভার্সন প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে এবার বিসিএল অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিশেষ করে নতুন বলে টপঅর্ডারদের বল ছাড়ার অভ্যাসটা অপরিহার্য। সদ্য পাকিস্তানে টি-২০ খেলে ফেরা জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলবেন বিসিএলের প্রথম রাউন্ড। সাদা বল ছেড়ে এখন সবাই লাল বলের অনুশীলনে নেমেছেন। তাছাড়া একটা ম্যাচ খেলেই পাকিস্তান সফরে টেস্ট খেলতে যাবে জাতীয় দল। তাই ম্যাচ অনুশীলন সাহায্য করবে টেস্ট দলের ক্রিকেটারদেরও।
বুধবার দুপুরের পর বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল দল। মূল লড়াইয়ে নামার আগে মাত্র দুই দিন অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। প্রস্তুতির স্বল্পতা তাই থেকেই যাচ্ছে। সৌম্য জানালেন, অনুশীলন কম হচ্ছে না ভেবে বরং সবাইকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে লাল বলের জন্য। মধ্যাঞ্চলের দলটা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। যদিও সৌম্য মনে করেন, সব দলেই তারকা ক্রিকেটাররা থাকায় শিরোপা জেতা সহজ হবে না।
বিসিএলের মাধ্যমে ম্যাচ অনুশীলন হবে, যেটা জাতীয় দলকেও সাহায্য করবে। প্রস্তুতির সময় কম এই চিন্তা বাদ দিয়ে সৌম্য তাই মানসিক প্রস্তুতিতেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। গতকাল অনুশীলন শেষে বাঁহাতি এই ওপেনার বলেছেন, ‘অনুশীলন করে গেলে তো অবশ্যই ভালো হয়। যেহেতু জাতীয় দলের সবাই পাকিস্তানে যাবে, তার আগে যেন সবাই একটি ম্যাচ খেলে। অনুশীলন কম হচ্ছে, এরপরেও ম্যাচ অনুশীলনে অন্যরকম একটা ব্যাপার থাকে। সবাই যদি দুটি দিন অনুশীলনের চেয়ে মানসিকভাবে একটু বেশি চিন্তা করে লাল বল নিয়ে তাহলে মনে হয় কাজ হবে।’
ইতিবাচক চিন্তা করার পক্ষে সৌম্য। তিনি আরো বলেছেন, ‘অনুশীলনের সুযোগটা বেশি থাকলে ভালো হতো, যেহেতু নেই তাই এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করে লাভ নেই। ইতিবাচকভাবে চিন্তা করে কিভাবে যাওয়া যায় সেটাই জরুরি।’
সৌম্য ছাড়াও মধ্যাঞ্চল দলে আছেন মিঠুন, মুস্তাফিজ, মিরাজ, শহীদুল, নাঈম শেখের মতো পারফরমার। তারপরও শিরোপা জেতা কঠিন হবে বলে মনে করেন সৌম্য। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘চ্যাম্পিয়ন দল বলতে আসলে নির্ভর করে যে কারা কোন বছর মাঠে ভালো খেলে। দল অনুযায়ী যদি সবাই ভালো খেলে তখন ফলাফলটি আসে বেশি। যেমন খুলনার ক্রিকেটার (দক্ষিণাঞ্চল দলে) থাকত, এখানে সবাই নিজেদের মতো খেলার ব্যাপার থাকত। পাশাপাশি এখানে পারফরমাররাও সেরকম ছিল। লম্বা সময় খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় ছিল। তাই সেখানে ফলাফল আনার একটা সুযোগ থাকে। আর এখানে যেহেতু সবাই ভিন্ন বিভাগ থেকে খেলে এসেছে, ওভাবে যদি চিন্তা করেন তাহলে কঠিন হবে।’
ইত্তেফাক/বিএএফ
