প্রায় ২ মাস ধরে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নষ্ট ৫ মাস, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও কাজ হচ্ছেনা ২ বছর যাবত। এমনটাই ঘটছে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে। এ কারণে জেলার দুর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। আর্থিকভাবে সচ্ছল রোগীরা দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকার বিনিময়ে বাহিরে থেকে সেবাগুলো নিলেও অন্য রোগীদের দুর্ভোগ চরমে। এ অবস্থায় সিভিল সার্জন শুধু কাগজে-কলমেই মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন মাত্র।
অভিযোগ উঠেছে, একটি মহল এই সুযোগে রোগীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৩০ নভেম্বর থেকে চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছেনা। সদর হাসপাতালে সিজার অপারেশন করাতে খরচ হয় মাত্র ১ থেকে ২ হাজার টাকা। একই অপারেশন করাতে বাইরে দিতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নষ্ট ৫ মাস যাবত। সরকারিভাবে মেশিনটি সচল করতে চিঠি চালাচালি করতেই এতগুলো মাস পার হলেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা। এক্স-রে করাতে ২/৩ গুণ টাকা গুনছেন রোগীরা।
আরও পড়ুন: ধানে লোকসানের পর লক্ষ্যমাত্রার বেশি জমিতে আলুর চাষ
এ হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে প্রায় ২ বছর যাবত। চারটি অত্যাধুনিক মেশিন থাকলেও সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে থেকে নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার বলেন, এ্যানেসথেসিয়া (অজ্ঞান) ও সার্জারির (অস্ত্রোপচার) চিকিৎসক না থাকায় এই মুহূর্তে মেজর কোনো অপারেশন হচ্ছেনা। নতুন সার্জারি চিকিৎসক যোগদান করলেও অন্য দুজনের পদ এখনও খালি। মন্ত্রণালয়ে বার বার চিঠি লেখা ছাড়াও সরাসরি সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছি। কবে নাগাদ ডাক্তার পাওয়া যাবে তা বলা যাচ্ছেনা।
ইত্তেফাক/এসি

