৪ লাখ টাকা সুদাসলে একবছরে ২০ লাখ টাকা!

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৩৬

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার চৌপুকুরিয়া গ্রামের আলেপ সরকার পেশায় কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয় আমগাছি বাজারে তার দোকান ছিল। ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিবেশী মাসুদ রানার কাছ থেকে সুদে ৪ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। বছর ঘুরতেই সুদে আসলে ২০ লাখ টাকা দাবি করে বসেন মাসুদ রানা। টাকা পরিশোধ করতে না পাড়ায় লিখে নেন জমিসহ আলেপ সরকারের নতুন বাড়ি। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা।

শুধু আলেপ সরকারই নন, মাসুদ রানার খপ্পরে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেকেই। তবে কেউ লোক লজ্জায় আর কেউ প্রতিকার চান না ভয়ে। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মাসুদ রানা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার চৌপুকুরিয়া গ্রামের নাওশাদ আলীর ছেলে মাসুদ রানা। লেখাপড়ায় বেশি না করলেও সুদের ব্যবসা করে অল্প সময়ে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। তার কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে কেউ ফসলি জমি, কেউ বাড়ি-গাড়ি, কেউ স্বর্ণালঙ্কার হারিয়েছেন। অভিযোগ আছে- সুদে টাকা দেওয়ার পর ফাঁকা স্ট্যাম্পে ও ফাঁকা চেক বইয়ে সই করে নেন মাসুদ রানা।
 
ভুক্তভোগী আলেপ সরকার বলেন, এক বছর আগে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মাসুদ রানার থেকে সুদে ৪ লাখ টাকা নেন তিনি। সুদের পরিমাণ বলেছিল প্রতিমাসে এক লাখে ৩০ হাজার টাকা। এ জন্য ২টি ফাঁকা চেক ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে হয়েছিল। কিন্তু বছর না ঘুরতেই মাসুদ ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এক বছরে ৪ লাখ টাকা কিভাবে ২০ লাখ হয়, জানতে চাইলে মাসুদ রানা আলেপ সরকারকে জানায়, আসল ও সুদসহ প্রতিমাসে চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে ওই টাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জিন ছাড়াতে আসা রোগীকে পিটিয়ে-চুবিয়ে মারলো ওঝা

এদিকে মাসুদ রানা টাকার জন্য আলেপ সরকারকে প্রতিনিয়ত চাপ দেওয়া ছাড়াও তুলে নেওয়ার এমনকি মামলার হুমকি দিতো। এত টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে ৩/৪ মাস আগে জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন আলেপ সরকার। কিন্তু মাসুদ রানা একপ্রকার জোর করে জমিসহ তার নতুন বসতবাড়ি লিখে নিয়েছে নিজের নামে। এছাড়া আলেপ সরকারের দোকানটিও বন্ধ হয়ে যায়। সব হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। 

জানা গেছে, দেহরক্ষী নিয়ে ঘোরেন মাসুদ রানা। সময়মত টাকা না দিলে দেহরক্ষীরা ধরে নিয়ে আসে। পরে আবারো ফাঁকা চেকে অথবা ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এভাবেই চলছে মাসুদ রানার সুদের ব্যবসা। 

মোবাইলে জানতে চাইলে মাসুদ রানা প্রথমে সুদের ব্যবসার কথা অস্বীকার করেন। আলেপ সরকারে কথা বললে তিনি দাবি করেন, সুদে নয় আলেপ টাকা ধার নিয়েছিলেন। তাহলে জমিসহ বাড়ি লিখে নিলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ রানা বলেন, আলেপ তার কাছে জমিসহ বাড়ি বিক্রি করেছেন, জোর করা হয়নি। 

এ প্রসঙ্গে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খুরশীদা বানু কণা বলেন, ভুক্তোভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসি